মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের আটক কেন্দ্র (ডিপো)গুলোতে গত পাঁচ বছরে (২০২১-২০২৫) মোট ৪৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩৯৩ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী এবং ১২ জন শিশু রয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেওয়ান রাকইয়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল এই তথ্য উপস্থাপন করেন।
মৃত্যুর হার ও জাতীয়তাভিত্তিক পরিসংখ্যান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আলোচ্য পাঁচ বছরে ইমিগ্রেশন বিভাগের বিভিন্ন ডিপোতে মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৬ জনকে আটক রাখা হয়েছিল। সে হিসাবে মৃত্যুর হার মোট আটক ব্যক্তির প্রায় ০.১৩ শতাংশ। জাতীয়তাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সর্বোচ্চ মৃত্যু ফিলিপাইনের নাগরিকদের—২২২ জন। এরপর ইন্দোনেশিয়ার ১০৯ জন এবং মিয়ানমারের ৬১ জন।
অন্যান্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চীন, পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, ব্রুনেই, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের মিলিয়ে আরও ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব দেশের জন্য পৃথক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
মৃত্যুর কারণ ও সরকারি পদক্ষেপ
সাবাং আসনের সংসদ সদস্য ওং চেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করেন। অধিকাংশ মৃত্যুর পেছনে জটিল স্বাস্থ্যগত কারণ দায়ী—সেপসিস ও সেপটিক শক, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্রোগ ও রক্তনালিজনিত জটিলতা, পরিপাকতন্ত্র ও লিভারের রোগ। এ ছাড়া এইচআইভি/এইডস, লেপ্টোস্পাইরোসিস এবং মেনিনজাইটিসের মতো সংক্রামক রোগেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইমিগ্রেশন ডিপোগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে ডিপোতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক আটক ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।
সংক্রামক রোগে আক্রান্ত বা মানসিক স্বাস্থ্যসংকটে থাকা আটক ব্যক্তিদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের দ্রুত সরকারি হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। এছাড়া আটক ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত সামগ্রী, পোশাক ও কম্বল সরবরাহ এবং সপ্তাহে অন্তত একবার খোলা পরিবেশে বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।



