যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে আগামী শুক্রবার থেকে পরবর্তী আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর দুই দিন আগেই হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধসীমা অতিক্রম করেছে ইরানের বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার।
অবরোধ ভাঙার ঘটনা
বুধবার (১৭ জুন) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ট্যাংকার ট্র্যাকার্সের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। ট্যাংকার ট্র্যাকার্স জানিয়েছে, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, গত দুই মাসের মধ্যে এটিই ইরানের প্রথম অপরিশোধিত তেল রপ্তানির চালান।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির (এনআইটিসি) দুটি ট্যাংকার ডিওনা ও হিরো মঙ্গলবার অবরোধসীমা পেরিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ছিল মোট ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল। আরেকটি ট্যাংকার সোনিয়া আইতে ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে বুধবার ওমান উপসাগরে অবরোধ ভেঙেছে বলে জানিয়েছে ট্যাংকার ট্র্যাকার্স।
আন্তর্জাতিক তেলবাজারে প্রভাব
এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির পর ইরানের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি আনতে পারে।
যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পটভূমি
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়। এখন সেই যুদ্ধ থামাতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে মূল আলোচনা শুরু হবে। আলোচনা চলবে ৬০ দিন। লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্থায়ী চুক্তি এবং দেশটির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের রূপরেখা তৈরি করা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তেল ও জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দেবে। ব্যাংকিং, পরিবহন ও বীমাসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবাও এই শিথিলতার আওতায় আসবে। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।



