গিনির রাজধানীতে ব্যাপক গোলাগুলি, কারাগার ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
গিনির রাজধানীতে গোলাগুলি, কারাগার ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এলাকায় উত্তেজনা

গিনির রাজধানীতে ব্যাপক গোলাগুলি, কারাগার ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রির কেন্দ্রীয় কারাগার ও প্রেসিডেন্ট প্যালেস সংলগ্ন এলাকায় ভারি গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে শুরু হওয়া এই ঘটনা দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। গোলাগুলির পর ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

গোলাগুলির বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় সময় সকাল ৯টার একটু আগে গোলাগুলি শুরু হয় এবং প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারা গুলি চালিয়েছে বা কী কারণে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কনাক্রির কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকা কালুমে সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী বহনকারী একাধিক সামরিক পিকআপ ট্রাক ও একটি মেশিনগান বসানো সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়। কালুম এলাকাতেই প্রেসিডেন্টের বাসভবন অবস্থিত। এই মোতায়েনের মাধ্যমে এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আবদুরামানে দুকুরে জানান, তিনি গাড়িতে করে কারাগারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমন সময় গুলির শব্দ শোনেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক জ্যাম ছিল। গুলি শুরু হতেই সবাই যে যেদিকে পারে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।’ কারাগারের পাশের এক বাসিন্দা জানান, তিনি কারাগারের ভেতর থেকেও গুলির শব্দ শুনেছেন, তবে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। যদিও তিনি যোগ করেন, ‘কিন্তু এই শান্ত অবস্থা কতক্ষণ থাকবে, তা কেউ জানে না।’

কারাগারের অতীত সহিংস ঘটনা

গিনির কেন্দ্রীয় কারাগার আগেও সহিংস ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। ২০২৩ সালে এক কারা ভাঙার ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত হন। ওই ঘটনায় সশস্ত্র কমান্ডোরা স্বল্প সময়ের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট মুসা দাদিস কামারাকে মুক্ত করে নিয়ে যায়। এই অতীত ঘটনা বর্তমান গোলাগুলির প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও গোলাগুলির সঠিক কারণ ও দায়ীদের পরিচয় এখনও অজানা। কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য না আসায় জনগণের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা গিনির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট প্যালেস সংলগ্ন এলাকায় এমন ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলছে।