বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘর থেকে ২০০৭ সালে ফ্রান্সে প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো প্রত্ননিদর্শনগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৯ সদস্যের এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল ইসলামকে।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত
গতকাল সোমবার দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম। সভায় কমিটির কয়েকজন সদস্য ২০০৭ সালে ফ্রান্সফেরত প্রত্ননিদর্শনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনওকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
ফ্রান্সে পাঠানো প্রত্ননিদর্শন
২০০৭ সালে প্রদর্শনীর জন্য ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়া হয় দেশের বিভিন্ন জাদুঘরের কিছু প্রত্ননিদর্শন। এর মধ্যে বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘরের ছিল ৪৭টি নিদর্শন। প্রথম লটে বেশ কিছু প্রত্ননিদর্শন পাঠানো হয়। দ্বিতীয় লট পাঠানোর সময় একটি মূর্তি বিমানবন্দরে হারিয়ে গেলে ফ্রান্সের সঙ্গে প্রদর্শনীর চুক্তি বাতিল করা হয়। পরে মূর্তিগুলো ফেরত আনা হলেও সেগুলো আসল নাকি রেপ্লিকা, তা আজও যাচাই করা হয়নি।
তদন্ত কমিটির কাজ
উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রত্ননিদর্শনের বিষয়ে তদন্ত করতে শিবগঞ্জের ইউএনওকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে দেখবে প্রত্ননিদর্শনগুলো কী অবস্থায় আছে, কতগুলো আসল আর কতগুলো রেপ্লিকা। মীর শাহে আলম বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।’
জাদুঘর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান রাজিয়া সুলতানা বলেন, ফ্রান্সের গিমে জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য সে দেশের দূতাবাস থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতি জানিয়ে ফ্রান্স দূতাবাসকে চিঠি দেওয়া হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, জাতীয় জাদুঘর এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সঙ্গে ফ্রান্সের তিনটি আলাদা চুক্তি হয়। ২০০৭ সালের ১৮ নভেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় প্রত্ননিদর্শন পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করা হয়।



