ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি গবেষক নাহিদা সুলতানা ব্রিস্টির দাফন সম্পন্ন
ফ্লোরিডায় নিহত গবেষক ব্রিস্টির দাফন সম্পন্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক নাহিদা সুলতানা ব্রিস্টির জানাজা ও দাফন শনিবার মাদারীপুর সদরে সম্পন্ন হয়েছে। সন্ধ্যায় খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে তার মরদেমি দাফন করা হয়।

মরদেহ ঢাকায় আগমন

এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ব্রিস্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। ব্রিস্টির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাহাবাব বলেন, “ব্রিস্টি উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশে ফিরে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারতেন। বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে যাতে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হয়। প্রশাসন ব্রিস্টির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

গ্রামবাসীর আবেগঘন দৃশ্য

দুপুরে গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা মরদেহ দেখতে জড়ো হন। বেলা ১টা ৩০ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ পৌঁছালে আবেগঘন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। ব্রিস্টির মা বারবার জ্ঞান হারান। তিনি ব্রিস্টির খালাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলেন, “আমার প্রাণ কোথায় গেল আমাকে ফেলে? এখন কার সাথে থাকব? আমার ব্রিস্টিকে ফিরিয়ে দাও।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্রিস্টির বাবা জহির উদ্দিন আঁকন আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “আমি ব্রিস্টির পছন্দের ডিজাইনে বাড়ি তৈরি করেছিলাম যাতে আমরা সবাই একসাথে থাকতে পারি। সে জুলাই মাসে বাড়ি উদ্বোধন করতে আসার কথা ছিল। কিন্তু আমার মেয়ে বাড়ি উদ্বোধন না করেই পরপারে চলে গেল। এখন এই বাড়িতে আমি কীভাবে থাকব?” তিনি জানান, ব্রিস্টি সবসময় পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাচাতো বোনের প্রতিক্রিয়া

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ব্রিস্টির চাচাতো বোন তুলি আক্তার বলেন, “আমিও বোনের মতো বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু এই ঘটনার পর আমার পরিবার আমাকে বাইরে পাঠাতে চায় না। এই হত্যার কঠোর শাস্তি না হলে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে আগ্রহ হারাবে। হত্যাকারীকে ফাঁসি দেওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, নাহিদা সুলতানা ব্রিস্টি ও জামিল আহমেদ লিমন, উভয়ই সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী, ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। তাদের মরদেহ ২৪ ও ২৬ এপ্রিল উদ্ধার হয়। লিমনের মরদেহ দেশে এনে ৪ মে দাফন করা হয়।