সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মুরাদের মরদেহ ১৫ দিন পর দেশে ফিরেছে
সৌদি আরবে নিহত মুরাদের মরদেহ ১৫ দিন পর দেশে ফিরেছে

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক মুরাদ শেখের (৩৪) মরদেহ ১৫ দিন পর দেশে ফিরেছে। আজ শনিবার ভোরে তাঁর মরদেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে সকাল সোয়া নয়টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দরাপের ডাঙ্গী তাঁর গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছায়। বেলা ১১টায় দুদুখানপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকার মানুষ ভিড় করেন। নিহত ব্যক্তির স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন, ১০ মাসের ছেলে রেজাউল ইসলাম, ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মাইশা খাতুন ও ৬ বছর বয়সী মেয়ে মেহেরিমা কান্নাকাটি করছিল। আত্মীয়স্বজন তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্ত্রীর আহাজারি

স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, আকামা শেষ করে তাঁর স্বামীর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রেখে তাঁর স্বামী সৌদি আরব যান। ছেলের জন্মের পর বাবা তাকে কোলেও নিতে পারেননি, আহাজারি করে সেই কথাই বলছিলেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বলতো, তাড়াতাড়ি বাড়ি আসব, আমার বাবাকে কোলে তুলে নিবো।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শেষ ফোনালাপ

বড় মেয়ে মাইশা খাতুন বলে, দুর্ঘটনার দুই ঘণ্টা আগে বাবার সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছিল। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ভালোভাবে কথা শোনা যাচ্ছিল না। বাবা বলেছিলেন, পরে ফোনে কথা বলবে। সেই কথা আর বলা হয়নি।

প্রবাসীর সহায়তায় মরদেহ ফেরত

মুরাদের মেজ ভাই কাউসার হোসেন জানান, মুরাদ এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। স্বল্প বেতনে সংসার চালানো কঠিন হওয়ায় আরেক ভাই সৌদিপ্রবাসী আতিকুরের মাধ্যমে প্রায় এক বছর আগে তিনি সৌদি আরব যান। দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠান কোনো সহযোগিতা করেনি। পরে গোয়ালন্দের হুসাইন নামের এক প্রবাসীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুরাদের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন মুরাদ। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও তিন সন্তান অসহায় হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতার অনুরোধ করেন।