গবেষণায় প্রমাণ কলম্বাসের জন্ম ইতালিতে নয়, স্পেনে
গবেষণায় প্রমাণ কলম্বাসের জন্ম স্পেনে

ক্রিস্টোফার কলম্বাস নামটা নিশ্চয়ই সবার পরিচিত। ইতিহাসের বিখ্যাত নাবিক। শৈশবে অনেকেই শুনেছি, তিনি আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন। এখন অবশ্য জানা গেছে, প্রথম যাত্রায় তিনি কিউবা আবিষ্কার করেছিলেন। উইকিপিডিয়ায় ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নাম খুঁজলে দেখা যেত, তাঁর জন্ম ইতালির জেনোয়ায়। তবে বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, তিনি ইতালি নয় বরং স্পেনে জন্মেছিলেন।

বিতর্কের অবসান

কলম্বাসের জন্ম আসলে কোন দেশে, তা নিয়ে শত শত বছর ধরে চলছিল বিতর্ক। কেউ বলতেন তিনি পর্তুগালে জন্মেছিলেন, কেউ বলতেন গ্রিসে। কেউ কেউ আবার স্কটল্যান্ড বলেও দাবি করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি মানুষের বিশ্বাস ছিল, তিনি ১৪৫১ সালে ইতালির জেনোয়া শহরে জন্মেছিলেন। কিন্তু ২২ বছরের গবেষণা এসব তথ্যকে ভুল প্রমাণিত করেছে। গবেষণা বলছে, কলম্বাস জন্মেছিলেন স্পেনে।

গবেষণার পদ্ধতি

কলম্বাস আসলে কোন দেশে জন্মেছিলেন, তা খুঁজে বের করতে ২০০৩ সালে গবেষণা শুরু করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ মিগুয়েল লোরেন্তে। টানা ২২ বছরের গবেষণা শেষে চলতি বছরের অক্টোবরে তিনি ফলাফল প্রকাশ করেছেন। ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ডকুমেন্টারির আকারে। ‘কলম্বাস ডিএনএ: দ্য ট্রু অরিজিন’ নামে স্পেনের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইতে (tve) এটি প্রকাশিত হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিগুয়েল লোরেন্তে তাঁর গবেষণার জন্য ব্যবহার করেন কলম্বাসের ডিএনএ। স্পেনের সেভিল ক্যাথেড্রালে সমাহিত দেহাবশেষ থেকে কিছুটা ডিএনএ সংগ্রহ করেন তিনি। তাঁর সংগৃহীত নমুনা আসলেই কলম্বাসের কি না, তা প্রমাণ করতে কলম্বাসের ছেলে হার্নান্দো ও ভাই দিয়াগোর মেরুদণ্ড থেকেও ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করেন। তাঁদের সঙ্গে কলম্বাসের ডিএনএ মিলে গেছে। অর্থাৎ ক্যাথেড্রালে আসলেই কলম্বাসের দেহাবশেষ রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিএনএ গবেষণার পদ্ধতি

ডিএনএ গবেষণার এই পদ্ধতিকে বলে আর্কিওজেনেটিকস। এ পদ্ধতি ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে চালু আছে। জার্মানের লাইপজিগের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ইভল্যুশনারি অ্যানথ্রোপলজির আর্কিওজেনেটিকসের গবেষক রদ্রিগো বারকুয়েরা এ পদ্ধতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘জেনেটিকস উপাদানগুলো মানুষের প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনা থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার আগে সেগুলো অবশ্য শুদ্ধ করা হয়। এই জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি নারী নাকি পুরুষ ছিলেন, তা বোঝা যায়। বেঁচে থাকতে তাঁর কোনো রোগ ছিল কি না, তা-ও বোঝা যায়। তবে মৃত্যুর পর যত বেশি সময় পেরিয়ে যাবে, জিনগত উপাদান খুঁজে পাওয়া তত কঠিন হবে।’

গবেষণার ফলাফল

গবেষণা শেষে বোঝা গেছে, কলম্বাস আসলে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় বাস করতেন। সেখানেই তিনি বড় হয়েছেন। তারপর স্পেনের রাজার নির্দেশেই তিনি সমুদ্রে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্থান আবিষ্কার করেন।

এই গবেষণা থেকে বলা যায়, এখন হয়তো আর শুধু লেখা ইতিহাসে বিশ্বাস করা যাবে না। সত্য ইতিহাসও বদলে যেতে পারে যেকোনো সময়। প্রযুক্তি উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে আসল ইতিহাস। কথায় আছে, বিজয়ীরা সব সময় ইতিহাস লেখেন। এর মানে, বিজয়ীরা কিছুটা তথ্য বদলেও ইতিহাস রচনা করেন। হয়তো এ কথা এখন আর জোর দিয়ে বলা যাবে না। একদিন বেরিয়ে আসবে আসল সত্য।

সূত্র: দ্য উইক জুনিয়র ও আল-জাজিরা