ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার, ৬৩ লাখ টাকা আদায়, গ্রেফতার ৩
ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার, ৬৩ লাখ টাকা আদায়

ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় পাচার করে অপহরণ ও অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে এক যুবকের পরিবারের কাছ থেকে ৬৩ লাখ টাকা আদায় করেছে একটি চক্র। বিষয়টি জানতে পেরে তদন্তের পর ঘটনায় জড়িত মানব পাচারকারী চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেইসঙ্গে চক্রের জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভুক্তভোগী যুবককে। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।

প্রলোভন ও অপহরণের কাহিনি

তিনি বলেন, ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রথমে ভুক্তভোগী সোহেলের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেয়। পরে তাকে লিবিয়ার ত্রিপলী শহরে নিয়ে অপহরণ চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে ইমো অ্যাপে নির্যাতনের ভিডিও পাঠাতো। ভিডিওতে তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় দেখা যেত। ভয়-ভীতি দেখিয়ে ধাপে ধাপে আরও টাকা আদায় করা হয়।

নির্যাতনের নৃশংসতা

অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, সোহেলকে দীর্ঘদিন অনাহারে ও অর্ধাহারে আটকে রাখা হয়। তার হাতের নখ থেঁতলে দেওয়া, শরীর ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করা এবং বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধরের মতো নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানো, মুক্তিপণ ও ডলার ভাঙানোর নামে পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও গ্রেফতার

এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী উর্মি বেগম গত ৬ এপ্রিল তুরাগ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)।

এর একপর্যায়ে টিটু মীর, রহিমা বেগম ও ইসমাইল দেওয়ানসহ চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে মুক্তিপণ আদায়, ব্যাংক হিসাব ব্যবহার এবং বিদেশে থাকা মূলহোতাদের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

আর্থিক লেনদেন ও উদ্ধার

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহায়তায় চক্রটির ব্যবহৃত একাধিক ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। পিবিআইয়ের ধারাবাহিক তদন্ত ও অভিযানের চাপে অপহরণকারীরা শেষ পর্যন্ত লিবিয়ায় সোহেলকে একটি অজ্ঞাত স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে যান। এরপর পিবিআই, ইউএনওডিসি, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সমন্বয়ে তাকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়। গত ৩ মে তাকে ত্রিপলীর আইওএম আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৫ মে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে পিবিআই।

তদন্ত অব্যাহত

অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার ও অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালচক্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।