হাতের তালু চুলকানো একটি সাধারণ সমস্যা হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একজিমা, অ্যালার্জি, ডায়াবেটিস বা যকৃতের রোগের মতো গুরুতর অসুস্থতার ইঙ্গিত দিতে পারে। প্রচলিত বিশ্বাসে তালু চুলকালে টাকা আসা বা খরচ হওয়ার ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
হাতের একজিমা: সবচেয়ে সাধারণ কারণ
হাতের তালু চুলকানোর অন্যতম প্রধান কারণ হাতের একজিমা। এতে ত্বকে চুলকানি, শুষ্কতা, রং পরিবর্তন, ফাটল বা খসখসে ভাব দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে ছোট ছোট পানিভরা ফোসকা দেখা যায়, যাকে ডিজহাইড্রোটিক একজিমা বলে। যারা নিয়মিত পানি, ডিটারজেন্ট, জীবাণুনাশক বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে কাজ করেন, তাদের মধ্যে এই সমস্যার ঝুঁকি বেশি। পরিবারে একজিমার ইতিহাস থাকলেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
ডায়াবেটিস ও ত্বকের শুষ্কতা
রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, যার ফলে হাতের তালুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুলকানি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ত্বকে ছোট ছোট লালচে দাগ বা গুটিও দেখা যায়। মেডিকেল নিউজ টুডের মতে, বারবার চুলকানি হলে অবহেলা না করে কারণ খুঁজে দেখা উচিত, কারণ এটি শরীরের কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
অ্যালার্জি ও কনটাক্ট ডার্মাটাইটিস
ধাতব অলংকার, সুগন্ধি, ল্যাটেক্স গ্লাভস, সাবান, জীবাণুনাশক, ধুলাবালি বা অতিরিক্ত ক্লোরিনযুক্ত পানির সংস্পর্শে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যাকে কনটাক্ট ডার্মাটাইটিস বলে। অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুলকানি শুরু হতে পারে। বারবার একই উপাদানের সংস্পর্শে এলে শরীরে হিস্টামিন নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা চুলকানি ও অস্বস্তির কারণ।
যকৃতের রোগের ইঙ্গিত
কিছু ক্ষেত্রে হাতের তালুতে চুলকানি প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলাঞ্জাইটিস (পিবিসি) নামের একটি অটোইমিউন রোগের লক্ষণ হতে পারে। এই রোগে যকৃতের পিত্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে পিত্ত জমে ধীরে ধীরে যকৃতের ক্ষতি হয়। এ সময় হাতের তালু লালচে হয়ে যেতে পারে এবং বমি বমি ভাব, হাড়ে ব্যথা, ডায়রিয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব ও জন্ডিসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। নারীদের মধ্যে এই রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু ওষুধের প্রতিক্রিয়ায়ও হাতের তালুতে চুলকানি হতে পারে। নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর শরীরে মৃদু অ্যালার্জি হলে হিস্টামিনের কারণে হাত ও পায়ের তালুতে বেশি চুলকানি অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।
স্নায়ুর সমস্যা
ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতি বা কার্পাল টানেল সিনড্রোমের কারণেও হাতের তালুতে চুলকানি হতে পারে। এ অবস্থায় চুলকানির পাশাপাশি হাত অবশ হয়ে যাওয়া, ব্যথা, দুর্বলতা বা ঝিনঝিন অনুভূতি দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে রাতে এই অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি হাতের তালুর চুলকানি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, বারবার ফিরে আসে বা এর সঙ্গে ত্বকে ফুসকুড়ি, লালচে ভাব, ব্যথা, জন্ডিস বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক কারণ শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়।



