ঘন ঘন খেলে কি সত্যিই মেটাবলিজম বাড়ে? বিশেষজ্ঞ যা বলছেন
ঘন ঘন খেলে কি মেটাবলিজম বাড়ে? বিশেষজ্ঞের মতামত

মেটাবলিজম বাড়াতে অনেকেই মনে করেন, প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর অল্প করে খাওয়া দরকার। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই ধারণা নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। তবে ঘন ঘন খাবার খাওয়া কি সত্যিই শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষমতা বাড়ায়, নাকি এটি শুধু একটি প্রচলিত ধারণা—তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের রয়েছে ভিন্ন ব্যাখ্যা।

মেটাবলিজম আসলে কী?

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা গার্ডিয়ানে’ বলা হয়েছে, মানুষ যখন ‘মেটাবলিজম’ নিয়ে কথা বলে, তখন তারা আসলে কী বোঝাতে চান, সেটি আগে জানা জরুরি। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথের মেটাবলিক ফিজিওলজির অধ্যাপক জেমস বেটসের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেটাবলিজম বলতে ‘মেটাবলিক রেট’-কেই বোঝানো হয়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ে শরীর কতটা শক্তি (ক্যালোরি) খরচ করছে। একজন মানুষের মেটাবলিক রেট মূলত তার শরীরের আকার, বয়স, লিঙ্গ এবং শরীরের গঠনের (বডি কম্পোজিশন) ওপর নির্ভর করে।

শক্তি খরচের তিনটি উৎস

দ্যা গার্ডিয়ানে বলা হয়েছে, আপনার প্রতিদিনের মোট শক্তি খরচ (এনার্জি এক্সপেন্ডিচার) মূলত তিনটি উৎস থেকে আসে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো রেস্টিং মেটাবলিজম—অর্থাৎ শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও টিস্যুগুলো সচল রাখতে যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয়টি হলো খাবার হজম ও প্রক্রিয়াজাত করতে শরীর যে ক্যালোরি খরচ করে। আর তৃতীয়টি হলো শারীরিক কার্যকলাপ বা চলাফেরার মাধ্যমে ব্যয় হওয়া শক্তি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই তিনটির মধ্যে ব্যায়াম ও দৈনন্দিন চলাফেরার কারণে ক্যালোরি খরচের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনশীল। অর্থাৎ, একজন মানুষ কতটা সক্রিয় তার ওপরই এই অংশটি সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষজ্ঞের বক্তব্য

অধ্যাপক জেমস বেটস বলেন, “মানুষ যখন বলে তারা মেটাবলিজম বাড়াতে চায়, তখন আসলে তারা বেশি শক্তি বা ক্যালোরি খরচ করতে চায়।’’ তবে তিনি জানান, রেস্টিং মেটাবলিজম (বিশ্রাম অবস্থায় শরীরের শক্তি খরচ) আসলে বেশ নির্দিষ্ট ও অনুমানযোগ্য। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে শরীরের ওজন, বয়স ও লিঙ্গের মতো বিষয়ের ভিত্তিতে এটি যথেষ্ট নির্ভুলভাবে হিসাব করা যায়।

ঘন ঘন খেলে কি মেটাবলিজম বাড়ে?

তাহলে কি প্রতি কয়েক ঘণ্টা পরপর খেলে মেটাবলিজম বাড়ে? এর উত্তর হলো—খুব সীমিত অর্থে এটি সত্য। আপনি যদি ১০০ ক্যালোরির খাবার খান, তাহলে শরীরে এর নেট বৃদ্ধি হবে প্রায় ৯০ ক্যালোরি। কারণ খাবার হজম করতেও শরীরের শক্তি খরচ হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় থার্মিক ইফেক্ট অব ফুড। সাধারণত আপনি যে পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করেন, তার প্রায় ১০ শতাংশ শরীর খাবার চিবানো, হজম করা এবং পুষ্টি উপাদান শোষণের কাজে ব্যবহার করে।

তবে এর মানে এই নয় যে ঘন ঘন অল্প অল্প করে খাবার খেলে মেটাবলিজম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। খাবারের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে, দিনে মোট কত ক্যালোরি গ্রহণ করছেন এবং শরীর কতটা সক্রিয়—এ বিষয়গুলোই শক্তি খরচের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে।

কর (ট্যাক্স) এর সাথে তুলনা

জেমস বেটস বলেন, “আমি এটিকে অনেকটা করের (ট্যাক্স) সঙ্গে তুলনা করি। যেমন কর কাটার পর আপনার হাতে পাওয়া বেতন মোট বেতনের চেয়ে কম হয়, তেমনি আপনি যদি প্লেটে থাকা ১০০ ক্যালোরির খাবার খান, তাহলে শরীরে এর নিট বৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ৯০ ক্যালোরি। কারণ খাবারে থাকা শক্তি গ্রহণ ও ব্যবহার করার জন্য শরীরকে প্রায় ১০ ক্যালোরি খরচ করতে হয়।”

এর অর্থ হলো, খাবার খাওয়ার প্রক্রিয়ায় শরীর কিছুটা শক্তি খরচ করলেও, সেই পরিমাণ শক্তি গ্রহণ করা খাবারের ক্যালোরিকে পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়ার মতো যথেষ্ট নয়।

কার্যকর উপায় কী?

অধ্যাপক বেটস বলেন, “যদি আপনার লক্ষ্য হয় শরীরের শক্তি খরচ বাড়ানো, তাহলে এর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর উপায় হলো—আরও বেশি সক্রিয় হওয়া, অর্থাৎ বেশি নড়াচড়া করা।” অর্থাৎ, শুধু ঘন ঘন খাবার খেয়ে মেটাবলিজম বাড়ানোর চেয়ে নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম এবং দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোই ক্যালোরি খরচের জন্য বেশি কার্যকর।