হরমোন দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ নিষিদ্ধ হলেও বন্ধ হয়নি ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার
হরমোন দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ নিষিদ্ধ হলেও বন্ধ হয়নি ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার

হরমোন দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ নিষিদ্ধ হলেও কোরবানির পশু মোটাতাজা করতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হরমোন জাতীয় ওষুধের ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দোকানে এই ধরনের ওষুধ বিক্রি চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর শরীরে হরমোনের ব্যবহার আগের চেয়ে কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের হরমোন প্রয়োগ

কোরবানির বাজারে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরু মোটাতাজা ও ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় দেখাতে পশুতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করেন। মাংসের মাধ্যমে এসব ক্ষতিকর উপাদান মানবদেহে জমা হয়ে টিউমার, ক্যানসার ও কিডনি নষ্ট করার মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

বাজারে ওষুধের সহজলভ্যতা

গরু মোটাতাজাকরণে কয়েক ধরনের ওষুধ বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে। কিছু অসাধু মৌসুমি গরু বিক্রেতা গরুকে মোটাতাজা দেখাতে এসব ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করছেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, কোরবানির পশুর বাজারে শত শত লোক মৌসুমি গরু ব্যবসায় লিপ্ত হয়। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে পশু সংগ্রহ করে কোরবানির হাটে বিক্রি করেন। কোরবানির প্রায় এক মাস আগে থেকে এসব মৌসুমি বিক্রেতা গরু কিনে এনে বিভিন্ন স্থানে লালন-পালন করেন। অতি মুনাফার জন্য তারা পশুর শরীরে হরমোন প্রয়োগ করেন, যা পশুকে মোটা ও শরীরের রং সুন্দর দেখায়। কোরবানিদাতারা বেশি মাংস হবে ধারণা করে এসব পশু ক্রয় করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অসুস্থ পশুর সংখ্যা বৃদ্ধি

প্রতি বছর কোরবানির হাটে অনেক গরু, মহিষ ও ছাগল অসুস্থ হয়ে মারা যায়। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, হরমোন জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা গরু চিহ্নিত করার কিছু লক্ষণ দেখা যায়। মোটাতাজা করা এসব গরুর শরীরে পানি জমে এবং আঙুল দিয়ে চাপ দিলে শরীর দেবে যায়, মুখ দিয়ে লালা বের হয়।

হরমোনের প্রকার ও প্রভাব

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, পশুর শরীরে ব্যবহৃত হরমোন জাতীয় ওষুধের মধ্যে স্টেরয়েড জাতীয় হরমোন অন্যতম। দ্রুত ওজন বাড়াতে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষজ্ঞের মতামত

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, “দেশে হরমোন দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ নিষিদ্ধ। হরমোনের ব্যবহার আগের চেয়ে কমলেও একেবারে বন্ধ হয়নি। মানবদেহে প্রতিনিয়ত প্রকৃতিগতভাবে হরমোন তৈরি হচ্ছে। ক্ষতিকর হরমোন শরীরে প্রবেশ করলে নানা রোগ সৃষ্টি করে। এসব হরমোন বা স্টেরয়েড শিশুদের মস্তিষ্ক ও যৌনাঙ্গ গঠনে অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে নানা রোগের কারণ হয়।”

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য

বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুপন নন্দী বলেন, “হরমোন জাতীয় ওষুধের ব্যবহার এখন হচ্ছে না। খামারিরা ওষুধ ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণে ঝুঁকি নেবে না, কারণ একটি গরু মারা গেলে তাদের অনেক ক্ষতি হবে।”

বোয়ালখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমন তালুকদার বলেন, “তিন-চার বছর আগে গরু মোটাতাজা করতে ওষুধের ব্যবহার ছিল, কিন্তু এখন নেই। শুধু ভিটামিন জাতীয় ইনজেকশন দেওয়া হয়।”

খামারিদের বক্তব্য

খামারি সাজিদ আলম বলেন, “স্থায়ী খামারিরা গরু মোটাতাজা করতে হরমোন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে না। তবে কোরবানির সময় মৌসুমি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গরু সংগ্রহ করে কোরবানির হাটে আনেন। তাদের গরুগুলো তেমন মোটাতাজা নয়, তাই ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করতে হরমোন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেন।”

খামারি মালিক মো. ওমর বলেন, “সীমান্তের এপারে ও ওপারে গরুতে হরমোন জাতীয় ওষুধের ব্যবহার হয়ে থাকে। চার-পাঁচ বছর আগে দেশের কোরবানির হাটে অনেক গরু মারা গেছে। এরপর থেকে এসব ওষুধের ব্যবহার কমে গেছে।”