বয়সভেদে স্বাস্থ্য পরীক্ষা: ৩০, ৪০ ও ৬০ বছর পেরোলে কী করাবেন?
বয়সভেদে স্বাস্থ্য পরীক্ষা: ৩০, ৪০ ও ৬০ বছর পেরোলে কী করাবেন?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ থাকতে একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ অনেক রোগ হঠাৎ করে আসে না, বরং আগে থেকেই শরীরে লক্ষণ প্রকাশ করে। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে সেই লক্ষণগুলো প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়। পরে সেগুলো জটিল রোগে রূপ নেয়। তাই বয়সভিত্তিক কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত, যাতে শরীরের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।

৩০ বছর বয়সের পর করণীয় পরীক্ষা

চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়স পেরোলেই ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও এইচবিএ১সি পরীক্ষা করানো উচিত। এতে প্রি-ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এছাড়া লিপিড প্রোফাইল বা কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাও জরুরি, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ১৮ বছর পেরোলেই রক্তচাপ পরীক্ষা করিয়ে রাখা উচিত, কারণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি। নারীদের ক্ষেত্রে ২১ বছর বয়স পেরোলেই প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা করাতে হবে, যা প্রতি তিন বছর অন্তর করালে জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে নিরাময় সম্ভব।

৪০ বছর বয়সের পর করণীয় পরীক্ষা

৪০ বছর বয়স পেরোলেই কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) করানো জরুরি। এটি রক্তের প্রাথমিক পরীক্ষা, যা লিউকিমিয়া বা লিম্ফোমার মতো রক্তের ক্যানসার শনাক্ত করতে পারে। এছাড়া থাইরয়েড প্যানেল টেস্ট করানো উচিত, কারণ এই বয়সে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও থাইরয়েডের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। গ্লকোমা টেস্টও করিয়ে রাখা ভালো, যা দৃষ্টিশক্তি ও রেটিনার অবস্থা জানতে সাহায্য করে। নারীদের জন্য ম্যামোগ্রাম টেস্ট অত্যন্ত জরুরি, যা স্তন ক্যানসার শনাক্ত করতে বিশেষ ধরনের এক্স-রে ব্যবহার করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৬০ বছর বয়সের পর করণীয় পরীক্ষা

৬০ বছর বয়স পেরোলেই ‘বেসিক স্কিন ক্যানসার স্ক্রিনিং টেস্ট’ করানো ভালো, কারণ এই বয়সে মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া প্রস্টেটের সমস্যা এ বয়সে বেশি দেখা যায়, তাই ‘পিএসএ টেস্ট’ বা ‘প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন টেস্ট’ করিয়ে রাখলে প্রস্টেট ক্যানসার আগেই ধরা পড়ে। আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের সমস্যা থাকলে কোলোনোস্কোপি করিয়ে খাদ্যনালিতে টিউমার আছে কিনা তা পরীক্ষা করা উচিত। হার্টের রোগ থাকলে ইসিজি, ইকোকার্ডিয়োগ্রাম, করোনারি অ্যানজিওগ্রাম, করোনারি ক্যালশিয়াম স্কোরিং ও এমআরআই করিয়ে রাখা ভালো।