হঠাৎ শরীরের একপাশ দুর্বল লাগা বা কথা জড়িয়ে যাওয়াকে অনেকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি আসলে ‘ওয়ার্নিং স্ট্রোক’ বা ‘মিনি-স্ট্রোক’, যা বড় কোনো স্ট্রোকের আগাম সতর্কতা। লক্ষণগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে গেলেও এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মিনি-স্ট্রোক কী?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ)। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলে এটি দেখা দেয়। ব্রিটিশ চিকিৎসকদের মতে, এটি ‘মস্তিষ্কের হার্ট অ্যাটাক’। উপসর্গ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেরে গেলে টিআইএ বলা হয়, নইলে স্থায়ী স্ট্রোকে রূপ নিতে পারে।
দ্রুত চেনার উপায়: ‘BE FAST’ সূত্র
স্ট্রোকের লক্ষণ সহজে মনে রাখতে বিশেষজ্ঞরা ‘BE FAST’ ফর্মুলা ব্যবহারের পরামর্শ দেন:
- B (Balance): হঠাৎ শরীরের ভারসাম্য হারানো।
- E (Eyes): ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা।
- F (Face): হাসতে গেলে মুখের একপাশ ঝুলে যাওয়া।
- A (Arms): হাত উপরে তুলতে গেলে এক হাত পড়ে যাওয়া বা অবশ ভাব।
- S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট বলতে না পারা।
- T (Time): লক্ষণ দেখামাত্র সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া।
অন্যান্য উপসর্গ
প্রধান লক্ষণ ছাড়াও হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, খাবার গিলতে সমস্যা, বা বিভ্রান্তি মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।
ঝুঁকিতে কারা?
বিশেষজ্ঞরা জানান, ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সিদের ঝুঁকি বেশি, তবে তরুণরাও নিরাপদ নন। অনেকের হৃদপিণ্ডে জন্মগত ছিদ্র থাকতে পারে যা ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স্কদের অনিয়মিত হৃদস্পন্দন রক্ত জমাট বাঁধিয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে।
চিকিৎসকদের কড়া সতর্কবার্তা
ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা সতর্ক করে বলছে, মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণ কয়েক মিনিটে মিলিয়ে গেলেও এটি বড় বিপদের সংকেত। লক্ষণ সেরে গেলেও দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সচেতনতা বড় স্ট্রোক বা পক্ষাঘাত থেকে বাঁচাতে পারে।



