গরমের দাবদাহে অনেক পরিবার শিশুকে তালমিছরির শরবত খাওয়ান, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই বছরের নিচের শিশুদের জন্য এটি মোটেও উপযুক্ত নয়। তালমিছরি প্রক্রিয়াজাত চিনি থেকে তৈরি, যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তালমিছরি কি আসলেই উপকারী?
তালমিছরিতে ইনুলিন নামক প্রিবায়োটিক ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। এতে সেলেনিয়াম, জিংক ও ভিটামিন থাকায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তবে পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক জানান, চিনির মিছরি বা তালমিছরি—কোনোটাতেই তেমন পুষ্টিগুণ নেই। খাঁটি তালমিছরিতে সামান্য পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালশিয়াম থাকলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়।
শিশুদের জন্য ঝুঁকি
চিকিৎসক অর্পণ সাহা বলেন, 'তালমিছরির মিষ্টতা সাধারণ চিনির তুলনায় অর্ধেক হলেও এটি একটি প্রক্রিয়াজাত সুগার। দুই বছরের নিচের শিশুকে প্রক্রিয়াজাত চিনি দেওয়া নিষেধ।' তাই শিশুর প্রথম দুই বছর কোনো ধরনের অ্যাডেড সুগার এড়িয়ে চলা উচিত।
তালমিছরির গ্লাইসেমিক প্রভাব
তালমিছরির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স চিনির চেয়ে কম, ফলে রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি নিরাপদ বিকল্প নয়, কারণ রক্তে শর্করা বাড়বেই। যারা ওজন কমাতে চান, তাদেরও তালমিছরি এড়ানো উচিত।
কাদের জন্য তালমিছরি উপযোগী?
শিশু ও বয়স্কদের দুর্বল শরীরে মিছরির পানি দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে। গরমে ঘামের কারণে ক্যালোরির ঘাটতি পূরণেও এটি কার্যকর। তবে পিসিওএস, কিডনি সমস্যা বা সুক্রোজ নিষেধ থাকলে তালমিছরি খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলেন, 'তালমিছরিতে কার্বোহাইড্রেট ও শর্করা থাকে, যা রক্তে শর্করা বাড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীরা চিনির বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করতে পারবেন না।' অন্যদিকে চিকিৎসক অর্পণ সাহা জোর দিয়ে বলেন, 'দুই বছরের নিচের শিশুকে তালমিছরি দেওয়া চলবে না।'



