যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্যে সাইক্লোস্পোরা কায়েতানেনসিস নামের একটি রহস্যময় পরজীবীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই ক্ষতিকর পরজীবীটির সংক্রমণে ইতোমধ্যে ১৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তদের বয়স ৫ থেকে ৮৬ বছরের মধ্যে এবং সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে নিউ ইয়র্কে। স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই রোগে কেউ মারা যাননি।
সংক্রমণের উৎস এখনও অজানা
আক্রান্তদের কেউ সম্প্রতি দেশের বাইরে ভ্রমণ না করায় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) মনে করছে, কোনও খাবার থেকেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন খাবার থেকে এটি হচ্ছে, সেই উৎসটি এখনও রহস্যই রয়ে গেছে। সিডিসি ও এফডিএসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই সংক্রমণের উৎস উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেকের রোগ শনাক্ত না হওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
লক্ষণ ও চিকিৎসা
সাইক্লোস্পোরা পরজীবীর কারণে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামের একধরনের খাদ্য বিষক্রিয়া হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো মলদ্বারে প্রচণ্ড মোচড়সহ তীব্র বেগ ও পানির মতো তীব্র ডায়রিয়া, ক্ষুধামন্দা, পেট ফাঁপা, ক্লান্তি, মৃদু জ্বর, বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া। সাধারণত ক্রান্তীয় অঞ্চলে মল দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে এই সংক্রমণ ঘটে। তবে এটি মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে ছড়ায় না। সাধারণত সংক্রমণের এক সপ্তাহ পর লক্ষণগুলো দেখা দেয় এবং চিকিৎসা না করালে তা এক মাস বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে, যা শরীরে চরম পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রভাবিত অঞ্চল ও পূর্ববর্তী প্রাদুর্ভাব
নিউ ইয়র্ক, টেক্সাস ও ইলিনয় ছাড়াও নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন ডিসি, ফ্লোরিডা, আলাস্কাসহ ২০টি অঙ্গরাজ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আমদানি করা তাজা ফলমূল বা শাকসবজি খাওয়ার কারণেও এই ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর আগে ২০১৮ সালে ম্যাকডোনাল্ডসের সালাদ খেয়ে প্রায় ৪০০ মানুষ এবং ২০১৯ সালে মেক্সিকো থেকে আমদানি করা তুলসী পাতা খেয়ে মানুষ এই পরজীবীতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ ছাড়া ধনেপাতা, রাসবেরি, মটরশুঁটি ও লেটুস পাতার মাধ্যমেও এর আগে এই রোগ ছড়িয়েছিল।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
সংক্রমণ এড়াতে সিডিসি সবাইকে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপদ নিয়মাবলি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।



