লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত, শিশু সন্তান গুরুতর আহত
লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত, শিশু আহত

লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত, শিশু সন্তান গুরুতর আহত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে পাটগ্রাম পৌরসভার মির্জারকোট মডেল মসজিদের সামনে পাটগ্রাম-লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কে একটি ডাম্পট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।

নিহত ও আহতদের পরিচয়

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মনসাপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৩৫), তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (৩০) এবং তাঁদের মাত্র চার মাস বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ আল হুজাইফা। এ ঘটনায় আহত তাঁদের দশ বছর বয়সী আরেক ছেলে শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিবরণ

হাইওয়ে পুলিশ, পাটগ্রাম থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরিফুল ইসলাম পাটগ্রামের কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে করে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। ভোর সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে পাটগ্রাম পৌরসভার মির্জারকোট মডেল মসজিদের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ডাম্পট্রাকের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা

শরিফুল ইসলামের শ্যালক শামীম আহমেদ বলেন, 'ঈদের আনন্দ এভাবে শোকে পরিণত হবে, তা আমরা কেউ ভাবিনি। গুরুতর আহত শিশুটিকে এখনো তাঁর বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।' তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণ করা হবে।

পদক্ষেপ উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা বড়খাতা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুর্ঘটনার পরপর ডাম্পট্রাকটির চালক পালিয়েছেন। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, নিহতদের মরদেহ পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ট্রাকটি শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে।

এই দুর্ঘটনা পবিত্র ঈদের সময়ে পরিবারের জন্য গভীর শোক ও বেদনা নিয়ে এসেছে, যা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।