বাংলাদেশে কিডনি রোগের হার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে
বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষ্যে মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কিডনি রোগের হার আগে প্রায় ১৮ শতাংশ ছিল, যা ২০২৩ সালে বেড়ে প্রায় ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির পেছনে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় দেড় কোটি মানুষ
বর্তমানে দেশে প্রায় দেড় কোটির কাছাকাছি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় এবারের বিশ্ব কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'সবার জন্য কিডনি স্বাস্থ্য: মানুষের যত্ন, পৃথিবীর সুরক্ষা'।
বিনামূল্যে স্ক্রিনিং ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
কিডনি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষ্যে বিনামূল্যে রক্ত, প্রস্রাব এবং রক্তচাপ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এতে নিম্ন আয়ের প্রায় চার শতাধিক মানুষের স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে প্রতি রোগীর ডায়ালাইসিস খরচ ১,৬০০ টাকা, যা আরও কমানোর চেষ্টা চলছে। এছাড়া বহির্বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মাত্র ১০০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সুপারিশ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। তিনি তার বক্তৃতায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম এর মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে। কিডনি রোগ বিশ্বব্যাপী বাড়লেও আশার কথা হলো—এগুলোর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য।'
বিশেষ অতিথি রাশেদা কে চৌধুরী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে কিডনি রোগী দিন দিন বাড়ছে এবং ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের বড় অংশই নারী। তিনি বলেন, 'অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে নারীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকেন এবং গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসেন।' তিনি প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বাধ্যতামূলক কিডনি রোগ স্ক্রিনিং চালুর জন্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানান।
লক্ষণহীন রোগের বিপদ
কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় তিনি সতর্ক করে বলেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধিই কিডনি রোগের প্রধান কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, 'অনেক ক্ষেত্রে এসব রোগের লক্ষণ না থাকায় মানুষ চিকিৎসকের কাছে যান না। ফলে অজান্তেই অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হন।'
অনুষ্ঠানে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাসচিব ডা. রুহুল আমিন রুবেল এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস রশিদও বক্তব্য রাখেন। তারা জানান, কিডনি রোগীদের সহায়তা করাই কিডনি ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য।
এই আলোচনা সভা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে বাংলাদেশে কিডনি রোগ একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যার মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
