নাটোরে গবাদিপশুর মাংস থেকে অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার, আটজনের শরীরে উপসর্গ
নাটোরে গবাদিপশুর মাংস থেকে অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার

নাটোরে গবাদিপশুর মাংস থেকে অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার, আটজনের শরীরে উপসর্গ

নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায় অসুস্থ গবাদিপশুর মাংস থেকে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা জাতীয় রোগের বিস্তার ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে গুরুদাসপুর উপজেলা সদরের অদূরের চলনালী গ্রামে আবদুল গফুরের একটি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু জবাই করা হয়। এই গরুটির মূল্য প্রায় লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আটজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ

গরু জবাইয়ের পর থেকে ওই কাজে জড়িত আট ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেন: গোলাম মোস্তফা চুন্টু সরকার, ছানারুল সরকার, আসাদ মোল্লা, লাভলি বেগম, রাহুল সরকার, আবদুর রহিম সরকার, আলতাব হোসেন ও খাদিজা বেগম। এদের মধ্যে ছানারুল সরকারের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল কাদের বলেন, "প্রথমে ছানারুলের মুখমণ্ডলে চুলকানির মতো ফোসকা বের হয়। এরপর একদিনের ব্যবধানে আরও সাতজনের শরীরে একই ধরনের লক্ষণ পাওয়া যায়।" আক্রান্ত রাহুল সরকার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, "পরিবারের মধ্যে আমি এবং আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমার বাবার মুখে বামপাশ থেকে চোখেও সংক্রমণ হয়েছে।"

চিকিৎসা ও তদন্ত কার্যক্রম

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চলনালী গ্রাম থেকে আটজনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি দলও বৃহস্পতিবার গ্রামে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করে। চিকিৎসক অহিদুজ্জামান রুবেল বলেন, "রোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে শনিবার একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় পরিদর্শনের কথা রয়েছে। আইইডিসিআর-এর গবেষণা টিমের প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক রহমান বলেন, "চলনালী গ্রামের আটজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষতস্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।"

পূর্ববর্তী ঘটনা ও সতর্কতা

এর আগেও গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চাকআদালত-খাঁ ও মামুদপুর গ্রামে ১২ ব্যক্তি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আইইডিসিআর সেসব ক্ষেত্রেও নমুনা সংগ্রহ করেছিল। বর্তমান ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা অসুস্থ গবাদিপশু জবাই ও মাংস খাওয়া এড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা চুন্টু সরকার রোগ নিরাময়ে কোনো চিকিৎসা নেননি বলে জানা গেছে, অন্যদের চিকিৎসা চলমান। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে সম্ভাব্য বিস্তার রোধে।