কক্সবাজারে গ্যাস পাম্প বিস্ফোরণে দগ্ধ আবদুর রহিমের মৃত্যু, মোট নিহত ২
কক্সবাজারে গ্যাস পাম্প বিস্ফোরণে আবদুর রহিমের মৃত্যু

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্প বিস্ফোরণে আরও একজনের মৃত্যু

কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের আদর্শগ্রাম এলাকায় গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণের পর আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আবদুর রহিম (৩৯) মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে তাঁর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া আবদুর রহিমের বাড়ি কক্সবাজার শহরের কলাতলীর চন্দ্রিমা হাউজিং মাঠ এলাকায়। তিনি বিস্ফোরণ হওয়া গ্যাস পাম্পটির পাশে থাকা একটি গ্যারেজের মালিক ছিলেন।

গতকালের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় শোক

এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে একই বিস্ফোরণে দগ্ধ অটোরিকশাচালক আবু তাহেরের মৃত্যু হয়। তিনি কক্সবাজার শহরের কলাতলীর বাসিন্দা ছিলেন। এই দুটি মৃত্যুর মাধ্যমে বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইতে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’ নামে একটি নবনির্মিত গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আগুন ছড়িয়ে পড়লে চারটি বাড়ি, একটি গ্যারেজে রাখা ৪০টি গাড়িসহ নানা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনে দগ্ধ হন অন্তত ১৬ জন। এর মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

আবদুর রহিমের মৃত্যু নিশ্চিত

আবদুর রহিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছোট ভাই নুর আহমদ। তিনি বলেন, ঢাকায় ময়নাতদন্তের পর আবদুর রহিমের লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। এই ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় সম্প্রদায়ে।

অনুমতিবিহীন পাম্প পরিচালনা

এলপিজি পাম্পটি পরিচালনা করা হচ্ছিল জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় গ্যাস পাম্পের মালিক নুরুল আলমের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন বিস্ফোরক পরিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন।

বিস্ফোরণের পর থেকে পাম্পের মালিক আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন।

তদন্ত কমিটি গঠন

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পাম্পে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা তদন্ত এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এরপর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম বিভাগে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন আরও কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা দাবি করছেন।