মা দিবস আসলেই ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার কথা অনেক বলা হয়। কিন্তু মায়েদের এই অদৃশ্য মানসিক পরিশ্রমের বিষয়টি এখনো অনেক ক্ষেত্রেই থেকে যায় আলোচনার বাইরে। ইতালির মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইলেনা ভেত্তরেত্ত–এর ভাষায়, মেন্টাল লোড শুধু মাল্টিটাস্কিং নয়। এটি এমন এক অবিরাম মানসিক প্রক্রিয়া, যেখানে একজন মা একই সঙ্গে পরিবারের প্রয়োজন, সবার সময়সূচি, আবেগ এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে ভাবতে থাকেন।
গবেষণায় উঠে এলো মায়েদের মানসিক চাপের প্রকৃত কারণ
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে শেষ হওয়া ‘মাদারস মেন্টাল লোড’ নামের গবেষণাটি পরিচালনা করেন ইলেনা ভেত্তরেত্ত। তিনি বলেন, মায়েদের মানসিক চাপের সবচেয়ে বড় অংশ আসে ‘কগনিটিভ লেবার’ থেকে। অর্থাৎ পরিবারের সবকিছু নিয়ে আগে থেকেই চিন্তা করা, প্রস্তুতি নেওয়া ও আবেগগতভাবে সজাগ থাকা। এই মানসিক শ্রম প্রায়ই অদৃশ্য থাকে, কারণ এটি কোনো দৃশ্যমান কাজের মতো নয়।
পরিবারে দায়িত্ব ভাগাভাগি না হলে চাপ কমবে না
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পরিবারে দায়িত্ব ভাগাভাগির সংস্কৃতি তৈরি না হলে এই চাপ কখনওই কমবে না। মায়েরা শুধু শারীরিক কাজই করেন না, বরং পরিবারের প্রতিটি সদস্যের চাহিদা, সময়সূচি এবং আবেগের ভার বহন করেন। এই অবিরাম মানসিক প্রক্রিয়া তাদের জন্য অত্যন্ত ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞের মতে, এই চাপ কমানোর জন্য পরিবারের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি।
মা দিবসে শুধু উপহার বা শুভেচ্ছা নয়, বরং মায়েদের এই অদৃশ্য পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়াই প্রকৃত ভালোবাসার প্রকাশ হতে পারে।



