কক্সবাজারে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মৃত ১৩
কক্সবাজারে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মৃত ১৩

কক্সবাজারে হামের সংক্রমণ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুও। সর্বশেষ হামে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় হামে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

মৃত শিশুদের পরিচয়

মৃত দুই শিশু হলো- রামু উপজেলার বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ৮ মাসের ছেলে আতিকুর রহমান এবং একই এলাকার জাবেদের ৬ মাসের মেয়ে ওয়াজিফা। রোববার (৩ মে) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর বিবরণ

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওয়াজিফাকে গত ২৪ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আতিকুর রহমানকে একই দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়। দুই শিশুরই শরীরে হামের জটিলতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শান্তনু ঘোষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত সন্দেহে ৭৯ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সংক্রমণের পরিসংখ্যান

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় মোট ১ হাজার ৪৫২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র গত ২৯ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৯ জন, যা সংক্রমণের দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ জন শিশু।

স্বাস্থ্য বিভাগের মতামত

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, টিকাদানের ঘাটতি, অতিরিক্ত জনঘনত্ব এবং সচেতনতার অভাবের কারণে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিভাবকদের আতঙ্ক

এদিকে হঠাৎ করে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। অনেকেই তাদের সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন। ফলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চাপ বাড়ছে প্রতিদিনই।