ঘামাচি হলে শিশু ভীষণ যন্ত্রণায় ভোগে: প্রতিরোধ ও করণীয়
ঘামাচি হলে শিশু ভীষণ যন্ত্রণায় ভোগে: প্রতিরোধ ও করণীয়

ঘামাচি হলে শিশু ভীষণ যন্ত্রণায় ভোগে। গরমের সময় সুস্থ মানুষের বেশি ঘামাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘর্মগ্রন্থির বাইরের অংশে ঘাম কিংবা ময়লা জমে গেলে আর ঘাম বের হতে পারে না। এমন অবস্থাতেই সৃষ্টি হয় ঘামাচি।

শৈশবে কেন ঘামাচি বেশি হয়?

শিশুদের ঘর্মগ্রন্থি বড়দের মতো সুগঠিত নয়। তাই তাদের ঘর্মগ্রন্থির কার্যকারিতাও কিছুটা কম। ঘাম সৃষ্টি হলেও তা তাদের ঘর্মগ্রন্থির মধ্যেই আটকে থাকতে পারে। তা ছাড়া একেবারে ছোট শিশু ঘেমে গেলে অভিভাবক যদি তা সময়মতো খেয়াল না করেন, তাহলেও ঘাম জমে যেতে পারে সহজে। অন্যদিকে বাড়ন্ত বয়সে খেলাধুলা করতে গিয়ে ত্বক ময়লা হয়ে যায় সহজেই। ঘাম জমে ঘামাচি হওয়ার ঘটনাও তাই শৈশবেই ঘটে বেশি।

ঘামাচি প্রতিরোধে করণীয়

গরম আবহাওয়ায় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে ঘামাচি প্রতিরোধ করা সম্ভব। একেবারে ছোট শিশুর বেলায় অভিভাবকদেরই খেয়াল রাখতে হবে। আর শিশু বড় হতে থাকলে বয়স অনুযায়ী তাকে শিখিয়ে দিন সুস্থ থাকার নিয়মকানুন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • পোশাক হতে হবে হালকা ও নরম, যেন তা দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। পাতলা সুতি কাপড় বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
  • আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে চলতে হবে। কৃত্রিম তন্তুর তৈরি পোশাক গরমে পরা উচিত নয়।
  • খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ডায়াপার না পরানোই ভালো। এমন ডায়াপার বেছে নিন, যাতে প্লাস্টিক–জাতীয় স্তর না থাকে।
  • ঘেমে গেলে দ্রুত ঘাম মুছে ফেলতে হবে। বিশেষ করে খেয়াল রাখতে হবে বগল, কুঁচকি ও আঙুলের মাঝের জায়গার মতো শরীরের বিভিন্ন ভাঁজের দিকে। এসব অংশে ঘাম জমে থাকে।
  • খুব বেশি ঘেমে গেলে পোশাক বদলাতে হবে। এমন অবস্থায় গোসল করে নেওয়া ভালো। তা সম্ভব না হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলা যেতে পারে।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। খেলাধুলা করতে গিয়ে শরীরে ময়লা লেগে গেলে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে ঝটপট গোসল করে ফেলতে হবে। শিশুর উপযোগী সাবান ব্যবহার করতে হবে।
  • ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি কিংবা ভারী ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগ করা যাবে না। এ দেশে নবজাতকদের তেল মালিশ করার চল রয়েছে। তবে স্যাঁতসেঁতে, গরম আবহাওয়ায় এমন প্রসাধনী (তেল, লোশন বা ক্রিম) ব্যবহার করা উচিত নয়, যা ঘর্মগ্রন্থি আটকে দিতে পারে।
  • ভেজা ত্বকে পাউডার ব্যবহার করা যাবে না।

শিশুর ঘামাচি হলে কী করবেন?

ঘামাচি ভয়াবহ কোনো রোগ নয়। এতে ভয়ের কিছু নেই। ঘামাচি সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়। তবে ঘামাচি হলে শিশু ভীষণ যন্ত্রণায় ভোগে। তা ছাড়া আক্রান্ত স্থান চুলকাতে গিয়ে কখনো কখনো ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। সেখানে হতে পারে জীবাণু সংক্রমণ। জমতে পারে পুঁজ। ঘামাচি যদি হয়েই যায়, তাহলে কী করা উচিত, আর কী করা উচিত নয়, তা জেনে নেওয়া যাক।

  • নরম তোয়ালে বা কাপড়ে বরফ জড়িয়ে তা চেপে রাখুন আক্রান্ত স্থানে। শিশু আরাম পাবে।
  • মৃদু ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করালেও শিশুর আরাম হয়।
  • শিশুর ত্বকের উপযোগী ঘামাচি পাউডার প্রয়োগ করতে পারেন।
  • শিশুকে এ সময় অবশ্যই খুব নরম কাপড়ের পোশাক দিতে হবে, যেন ঘামাচির জায়গায় ঘষা লেগে শিশু কষ্ট না পায়।
  • ঘামাচি না চুলকানোই ভালো। নখ দিয়ে ঘষলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। প্রয়োজনে আঙুলের সামনের নরম অংশ কিংবা হাতের তালু আলতো করে বুলিয়ে নেওয়া যেতে পারে আক্রান্ত স্থানে।
  • শিশুর যন্ত্রণা উপশমের জন্য রাসায়নিক মিশ্রিত কোনো লোশন প্রয়োগ না করাই ভালো। কারণ, সাবধানে লোশন লাগিয়ে দেওয়ার পরও তা শিশুর মুখে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • অতিরিক্ত চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হলে, পুঁজ জমলে বা জ্বর এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • ফার্মেসি থেকে কোনো মলম কিনে নিয়ে শিশুর ত্বকে প্রয়োগ করা উচিত নয়। এগুলোও শিশুর মুখে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তা ছাড়া অনেক সময় স্টেরয়েড–জাতীয় মলম দেওয়া হয়, যা দীর্ঘ মেয়াদে শিশুর ত্বকের ক্ষতি করে।