আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে ২০২৬ সালের ২৫ জুন প্রথম আলোর কার্যালয়ে ১৭৮তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরামর্শ প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ। এ বারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: চলমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী ফলাফল’।
মাদক প্রতিরোধে সবার ভূমিকা
মাদক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক, চিকিৎসক, অভিভাবক এবং সমাজের সচেতন মানুষ— সবারই কম-বেশি ভূমিকা রয়েছে। তবে মূল ভয়টা থাকে মূলত কিশোর বা টিনেজ বয়সের সন্তানদের নিয়ে, যারা এই বয়সে এসে ভালো-মন্দের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলে। এই বয়সের সন্তানদের আত্মবিশ্বাস দিতে এবং সঠিক পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি হওয়া উচিত?
এর উত্তরে ডা. হেলাল আহমেদ বলেন, ‘আমি নিজে একজন শিশু-কিশোর মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ। সেই জায়গা থেকে যদি বলি— সমাজে কারো ভূমিকাই কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সরবরাহ কমাতে বা সাপ্লাই রিডাকশনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পলিসি মেকারদের রোল আছে; ক্ষতি কমাতে ‘হার্ম রিডাকশন’ বা চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের রোল আছে; আবার সচেতনতার জন্য শিক্ষকদেরও বড় রোল আছে।’
পরিবারের প্রধান ভূমিকা
তবে এই সবকিছুর উপরে সবচেয়ে বড় এবং প্রধান ভূমিকাটি রাখতে পারে ‘ফলাফলের টার্গেট বা জিপিএ-৫’-এর পেছনে না ছুটে পরিবার যদি শিশুর উজ্জ্বল ও সুষম বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়। এখানে উজ্জ্বল বিকাশ বলতে কিন্তু আমি পরীক্ষার জিপিএ বা ভালো রেজাল্ট বোঝাচ্ছি না। আমি বোঝাচ্ছি তার সামাজিক দক্ষতার বিকাশ। যে পরিবারে একটি শিশুর সামাজিক দক্ষতা ও মানসিক বিকাশ সুন্দরভাবে হয়, সেখানে পরবর্তীতে তার মাদক গ্রহণ করার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই অনেক কমে যায়। পরিবারকে যদি আমরা মানসিকভাবে সক্রিয় ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সচেতন করতে পারি, তবে মাদকাসক্তির এই মরণব্যাধিকে আমরা অনেকখানি প্রতিহত করতে পারব।’
সামাজিক দক্ষতার গুরুত্ব
ডা. হেলাল আহমেদের মতে, পরিবারকে মানসিকভাবে সক্রিয় ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সচেতন করতে পারলে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ সম্ভব। তিনি শিশুদের সামাজিক দক্ষতা ও মানসিক বিকাশের ওপর জোর দেন, যা পরীক্ষার ফলাফলের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাদকবিরোধী এই আন্দোলনে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, কারণ পরিবারই শিশুর প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং তার মানসিক বিকাশের মূল ভিত্তি।



