প্রস্রাবের রঙ, গন্ধ ও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার প্রবণতা শরীরের নানা অবস্থার ইঙ্গিত দিলেও চূড়ান্ত রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনিক ৪ থেকে ৮ বার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক; এর বেশি হলে অস্বাভাবিক বলে ধরা হয়। কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন কয়েক দিন ধরে দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
প্রস্রাবের রঙ কী নির্দেশ করে?
সাধারণত হালকা হলুদ বা ফিকে হলুদ রঙের প্রস্রাব স্বাভাবিক, যা শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকার ইঙ্গিত দেয়। গাঢ় হলুদ প্রস্রাব পানির অভাব নির্দেশ করে। তবে কিছু খাবার বা ওষুধের কারণেও প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন হতে পারে। চিকিৎসকরা জানান, শুধু প্রস্রাবের রঙ দেখে কিডনি সুস্থ না অসুস্থ—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
যদি প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায়, বারবার ফেনা তৈরি হয়, তীব্র দুর্গন্ধ থাকে, প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ কমে যায় বা প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকরা বলেন, এগুলো কিডনির সমস্যা, মূত্রনালির সংক্রমণ, পাথর বা অন্য কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।
কিডনি পরীক্ষার গুরুত্ব
কিডনির প্রকৃত অবস্থা জানতে কয়েকটি পরীক্ষা করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে ইউরিন টেস্ট, যেখানে প্রস্রাবে প্রোটিন বা অ্যালবুমিন আছে কিনা দেখা হয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, ইজিএফআর পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা হয়। এসব পরীক্ষার মাধ্যমেই কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব।
ঝুঁকিতে যারা
যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা পরিবারে কিডনির রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো উচিত। কিডনির অনেক রোগ প্রথম দিকে স্পষ্ট লক্ষণ দেয় না। তাই শুধু প্রস্রাবের রঙ দেখে নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়।
কিডনি ভালো রাখার উপায়
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। অতিরিক্ত লবণ, তেল-মসলাযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খেতে হবে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, কারণ এ দুটি রোগ কিডনি নষ্ট হওয়ার বড় কারণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যথার ওষুধ খাওয়াও কিডনির ক্ষতি করতে পারে।



