সিলেটে নতুন প্রশাসকের উদ্যোগ: নগরজুড়ে শুরু হলো বিশেষ মশকনিধন অভিযান
সিলেটে নতুন প্রশাসকের উদ্যোগ: মশকনিধন অভিযান শুরু

সিলেটে নতুন প্রশাসকের উদ্যোগ: নগরজুড়ে শুরু হলো বিশেষ মশকনিধন অভিযান

সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় নগরজুড়ে বিশেষ মশকনিধন অভিযান শুরু হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে নগরের নয়া সড়ক এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।

মশার উপদ্রব ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় অগ্রাধিকার

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরবাসী মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে মশা নিধন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনদুর্ভোগের খাতগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রথম পর্যায়ে ৮টি ওয়ার্ডে একযোগে অভিযান

সিটি করপোরেশন সূত্র থেকে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে নগরের মোট ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৮টি ওয়ার্ডে একযোগে অভিযান শুরু হয়েছে। বর্তমানে ১, ২, ৪, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে মশা নিধন কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ওয়ার্ডেও এ অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সহযোগিতার আহ্বান

প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সবার অংশগ্রহণ ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য সকলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। নিয়মিত লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের মাধ্যমে মশার বিস্তার রোধের উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অন্যান্য উদ্যোগ

গত বুধবার সিলেট সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি জানান, মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি রাস্তাঘাট সংস্কার, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ ও যানজট নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন নিয়মিতভাবে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

এ বিশেষ মশকনিধন অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নগরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।