সেহরির শেষ সময়ে অতিরিক্ত পানি পান: স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সঠিক পদ্ধতি
সেহরিতে অতিরিক্ত পানি পান: স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সমাধান

সেহরির শেষ সময়ে অতিরিক্ত পানি পান: স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সঠিক পদ্ধতি

রমজান মাসে রোজা রাখার সময় পানিশূন্যতা এড়াতে অনেকেই সেহরির শেষ মুহূর্তে প্রচুর পানি একসঙ্গে পান করেন। কিন্তু এই অভ্যাসটি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী বা ক্ষতিকর, তা নিয়ে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা সতর্ক করেছেন। মূলত, শরীর একসঙ্গে খুব বেশি পানি ধরে রাখতে পারে না, ফলে অতিরিক্ত পানি পান করলে কিডনি দ্রুত তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। এর ফলে ফজরের নামাজের কিছু সময় পরই আবার তৃষ্ণা অনুভূত হতে পারে, যা রোজাদারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।

অতিরিক্ত পানি পানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সেহরির শেষ সময়ে কয়েক গ্লাস পানি একসঙ্গে পান করলে শুধু তৃষ্ণাই ফিরে আসে না, বরং পেট ভারি লাগা, ফাঁপা ভাব কিংবা অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে। অনেকের ধারণা, এতে সারাদিন পিপাসা কম লাগবে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। শরীরের লবণ ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শেষ সময়ে বেশি পানি খেলেও যদি ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্তভাবে পানি না খাওয়া হয়, তাহলে এই ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। ফলস্বরূপ দিনের বেলায় তৃষ্ণা বেড়ে যায় এবং রোজাদার ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন।

সঠিক পদ্ধতি: ধীরে ধীরে পানি পান

সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টাকে কাজে লাগানো। এই পুরো সময়জুড়ে অল্প অল্প করে পানি পান করলে শরীর ধীরে ধীরে তা শোষণ করতে পারে এবং পানিশূন্যতা রোধে সহায়তা করে। সেহরির সময় মাঝারি পরিমাণ পানি পান করা যেতে পারে, তবে একসঙ্গে পানি পান না করাই ভালো। এছাড়া, সেহরির খাবার নির্বাচনেও সচেতনতা জরুরি। ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবারে প্রাকৃতিকভাবে পানি থাকে, যা শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণাক্ত, ভাজাপোড়া বা ঝাল খাবার খেলে দিনের বেলায় পিপাসা আরও বাড়তে পারে, তাই এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

সচেতন অভ্যাসের গুরুত্ব

সেহরির শেষ সময়ে বেশি পানি খাওয়া কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। বরং সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে পানি পান ও সুষম খাবার গ্রহণই রোজায় সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। রমজানের রোজায় শরীর সুস্থ রাখতে হলে তাড়াহুড়ো নয়, চাই সচেতন অভ্যাস। সেহরির খাবারও এখানে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সারাদিনের শক্তি ও পানির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে। সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্যবান্ধব পদ্ধতি মেনে চললে রোজা রাখা সহজ ও উপকারী হয়ে উঠবে।