ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, রাজধানীতে তীব্র মশক নিয়ন্ত্রণ অভিযান
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন বুধবার বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং রাজধানীজুড়ে মশক নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা তীব্র করা হয়েছে। তিনি নাগরিকদের চলমান এন্টি-মশা অভিযানে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়।
মন্ত্রীর ঢালপুর পরিদর্শন ও কীটনাশক মূল্যায়ন
মন্ত্রী ঢাকার ঢালপুরে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে — এটা সত্য। শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব গ্রহণের পর, আমরা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করেছি।"
তিনি আরও যোগ করেন, মশার উৎপাত থেকে শহরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দিতে সরকার একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা প্রচারণা শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি, কর্তৃপক্ষ নির্মূল অভিযান তীব্র করেছে।
আমদানিকৃত কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা
মন্ত্রী জানান, আমদানিকৃত কীটনাশকের বেশ কয়েকটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর কার্যকারিতা নির্ধারণের জন্য দ্রুত পরীক্ষা করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, "যদি কীটনাশক অকার্যকর পাওয়া যায়, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে পণ্যগুলো কার্যকর প্রমাণিত হবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত করতে সাহায্য করবে।
জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব ও করণীয়
জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে, মন্ত্রী বাসিন্দাদের তাদের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং মশার প্রজনন রোধ করতে স্থির পানি সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানান। তিনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর উপর জোর দেন:
- বাড়ির আশেপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা
- যেকোনো স্থির পানি, যেমন ফুলের টব, পুরোনো টায়ার বা পাত্রে জমে থাকা পানি সরানো
- স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সক্রিয় সহযোগিতা করা
এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, সরকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
