রমজানে নতুন কর্মঘণ্টা: রাজধানীতে যানজটে ইফতারের আগে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা
পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অফিস, আদালত ও ব্যাংকের নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ায় কর্মঘণ্টা শেষে কর্মস্থল থেকে ঘরমুখী মানুষের চাপে সড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে এই যানজট। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সরেজমিন পরিদর্শনে শ্যামলী, আসাদগেট, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন সময়সূচি ও যানজটের প্রভাব
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাস শুরু হয়েছে। এই উপলক্ষে সরকারি অফিস, আদালত ও ব্যাংকের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে অফিস-আদালত চলবে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। পুরো রমজান মাসজুড়ে এই সময়সূচি বলবৎ থাকবে।
কিন্তু প্রথম দিনেই এই পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজধানীর যানবাহন ব্যবস্থায়। কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার পরপরই অফিস থেকে বেরিয়ে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে সড়কগুলো অচল হয়ে পড়েছে। শ্যামলী, আসাদগেট, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহন প্রায় স্থবির হয়ে আছে। এছাড়া রাজধানীর অন্যান্য সড়কেও দীর্ঘ যানজটের খবর পাওয়া গেছে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও শঙ্কা
এই যানজটের ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই ইফতারের আগে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। একজন পথচারী বলেন, "অফিস থেকে বেরিয়েছি ঠিক সময়ে, কিন্তু রাস্তায় আটকে গেছি। ইফতারের আগে বাড়ি পৌঁছানো নিয়ে এখন চিন্তায় রয়েছি।" এই পরিস্থিতিতে দ্রুত যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অনেকে।
যানজট মোকাবিলায় ট্রাফিক পুলিশের পদক্ষেপ থাকলেও প্রথম দিনের চাপ সামলাতে তারা কিছুটা হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রমজান মাসজুড়ে এই ধরনের যানজট পরিস্থিতি চলতে পারে, যদি না যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও সতর্কতা
রমজান মাসে কর্মঘণ্টা কম হওয়ায় যানজটের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত হবে যানবাহন ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দেওয়া এবং বিকল্প রুট ও সময়সূচি প্রণয়ন করা।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন সময়সূচি রমজানের ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে শ্রমিক ও কর্মচারীদের সুবিধার্থে প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে যানজটের এই চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, পরিকল্পনার ঘাটতি রয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ এখন আশা করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে এবং তারা নির্বিঘ্নে ইফতারের আগে নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন।
