ছবি: লেখকের সৌজন্য। এমএসসি শেষ করেই একটি চাকরিতে প্রবেশ করি। বেতন যা পেতাম তাতে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতাম। বাবা-মায়ের স্নেহ ও প্রেমিকার উষ্ণ চুম্বনের টানে মাসে অন্তত দুইবার বাড়ি আসতাম। সে বছর শ্রাবণ মাসে ছোট বোনের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে দিয়ে শেষে প্রেমিকাকে বলি, এক বছরের মধ্যে আর বাড়ি ফিরব না। পরেরবার বাড়ি ফেরা শুধু তোমার ও আমার জন্য। এসে বিয়ে করব।
প্রেমিকার সম্মতি ও মায়ের অ্যাকসিডেন্ট
সেদিন প্রেমিকাও রাজি ছিল। পরদিন সকালে যখন চাকরিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা দিই, তখনই ঘটে মায়ের অ্যাকসিডেন্ট। ডাক্তার দেখালাম। মেরুদণ্ডের নিচের চারটি হাড় সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছিল। বয়সের কারণে ডাক্তার অপারেশন করতে ভয় পেলেন। মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চাকরিটা হারাই। তবু ডাক্তারের কাছে ঘুরতে ঘুরতে মা এখন মোটামুটি আছেন। শুধু হাঁটতে পারেন না। তাঁর খাওয়া, পায়খানা, প্রস্রাব সবই বিছানার কাছেই করতে হয়। তবু বলতে ভালো লাগে, তিনি সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সুস্থ আছেন।
প্রেমিকার বিচ্ছেদ ও একাকী সংগ্রাম
আজ মায়ের অ্যাকসিডেন্টের ১১ বছর পূর্ণ হলো। শুধু সেদিনের প্রেমিকা পাশে নেই। মায়ের অ্যাকসিডেন্টের ছয় মাসের মধ্যে সে চলে যায়। এখন আমার বাড়ির কাছে অনেকেই শহরে চাকরি করেন। তাঁরা ছুটিতে বাড়ি আসার পথে নানা রকম ফলমূল, মিষ্টি নিয়ে ঘরে আসেন। আর আমি তখনো মায়ের ওষুধ নিয়ে বাড়ি ঢুকি। মাটির ওপরে দুটি চোখ, লাজুক ঠোঁট। তবু বলতে ইচ্ছা করে, মা, আমি ভালো আছি।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী। ফিচার থেকে আরও পড়ুন: বন্ধুসভা ফিচার, জীবনযাপন, মা দিবস।



