হজে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি: মাসিক, মূত্রনালির সংক্রমণ ও গর্ভাবস্থায় সতর্কতা
হজে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সতর্কতা

হজে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি: মাসিক, মূত্রনালির সংক্রমণ ও গর্ভাবস্থায় সতর্কতা

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান জড়ো হচ্ছেন, যাঁদের মধ্যে নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তবে ভিড়, গরম আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় হাঁটা এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে নারীদের এ সময় নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। কিছু পূর্বপ্রস্তুতি ও সচেতনতা অবলম্বন করলে এসব সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব। এ ছাড়া নারীদের কিছু শারীরিক কারণে হজের সময় ইবাদতে সমস্যা হতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই জ্ঞান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাসিক বা ঋতুচক্রবিষয়ক উদ্বেগ ও সমাধান

হজের সময় প্রজননক্ষম নারীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ মাসিক বা ঋতুচক্র। কারণ, তাওয়াফ বা নামাজ পড়ার সময় মাসিক যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। এ জন্য যাত্রার বেশ কিছুদিন আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে হরমোন–জাতীয় ওষুধ, গর্ভনিরোধক পিল বা ইনজেকশন নিয়ে মাসিকের নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে এসব ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হয়।

মূত্রনালির সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়

নারীদের ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি সব সময়ই বেশি থাকে। গরম আবহাওয়া, পানিশূন্যতা, পানি কম পান করা, অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার বা প্রস্রাব আটকে রাখার মতো বিষয়গুলো এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। এসব ঝুঁকি কমাতে প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে। টয়লেট ব্যবহারের পর পরিষ্কার পানি ও টিস্যু ব্যবহার করুন। লজ্জাস্থান পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক রাখবেন। অন্তর্বাস পরলে নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে। পরিষ্কার ঢিলেঢালা সুতি কাপড় পরিধান করুন। কোনো পরিস্থিতিতেই প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না, কারণ এটি সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্তঃসত্ত্বা নারীর জন্য বিশেষ সতর্কতা

গর্ভাবস্থায় হজ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে প্রথম ও শেষ তিন মাসের সময়। প্রচুর পরিশ্রম, হাঁটা, দূরযাত্রা ও ভিড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া এ অবস্থায় হজের পরিকল্পনা করা উচিত নয়। বেশি হাঁটতে ক্লান্ত–পরিশ্রান্ত বোধ করলে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। মাস্ক পরা ভালো, যা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সহায়ক। প্রয়োজনীয় খাবার, পানি ও ওষুধ সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে, যাতে জরুরি অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোক থেকে সুরক্ষা

দিনে কমপক্ষে আড়াই বা তিন লিটার পানি ও তরল গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে খাওয়ার স্যালাইন, ফলের রস, ডাবের পানি, লাবাং বা লাচ্ছি ইত্যাদি খান। ছাতা, সানস্ক্রিন ও হাতে ব্যবহারযোগ্য ব্যাটারিচালিত ফ্যান সঙ্গে রাখুন। প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, জিব শুকিয়ে আসা, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া পানিশূন্যতার লক্ষণ। এমন হলে দ্রুত শীতল স্থানে চলে যেতে হবে। ঠান্ডা করতে হবে শরীর। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, যাতে দ্রুত সুস্থতা ফিরে আসে।

রোগে আক্রান্ত প্রবীণ নারীদের প্রস্তুতি

যেসব প্রবীণ নারীর ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, হাঁপানি ইত্যাদি রোগ আছে, তাঁরা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন এবং হজের সময় ওষুধপত্রের নিয়ম জেনে নেবেন। জরুরি ওষুধ সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট সঙ্গে রাখতে ভুলবেন না, যা জরুরি অবস্থায় সহায়ক হতে পারে।

সর্বোপরি, হজ একটি পবিত্র ইবাদত, এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এটি পালন করলে নারীদের জন্য এটি আরও অর্থবহ ও নিরাপদ হতে পারে। পূর্বপ্রস্তুতি ও সচেতনতা অবলম্বন করে এসব ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব, যা হজের অভিজ্ঞতাকে সুখকর করে তোলে।