ঈদুল আজহার দিন মানেই টেবিলজুড়ে গরু বা খাসির নানা পদ। পরিবার, অতিথি আর আড্ডার ভিড়ে কখন যে খাওয়ার গতি একটু বেড়ে যায়, তা টেরও পাওয়া যায় না। আর ঠিক সেই অসতর্ক মুহূর্তেই ছোট্ট একটি হাড় গলায় আটকে তৈরি করতে পারে বড় বিপদ। অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ শুকনা ভাত গিলে ফেলেন, কেউ আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা করেন। অথচ ভুল পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই গলায় হাড় বিঁধলে কী করবেন, আর কী করবেন না তা জানা জরুরি।
কেন গলায় হাড় আটকে যায়?
খাবার গিলতে গেলে মুখ, জিহ্বা ও গলার পেশিগুলো একসঙ্গে কাজ করে খাবারকে পাকস্থলীর দিকে পাঠায়। কিন্তু মাংস ঠিকভাবে চিবানো না হলে ছোট বা ধারালো হাড় খাদ্যনালির কোথাও আটকে যেতে পারে। বিশেষ করে তাড়াহুড়া করে খাওয়া, গল্প করতে করতে খাওয়া কিংবা দাঁতের সমস্যার কারণে ঠিকমতো চিবাতে না পারলে ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়।
গলায় হাড় বিঁধলে প্রথমে কী করবেন?
কাশি দেওয়ার চেষ্টা করুন
অনেক সময় হালকা কাশি দিলেই ছোট হাড় সরে যায়। তবে খুব জোরে বা আতঙ্কিত হয়ে চেষ্টা করবেন না।
পানি পান করুন
কয়েক ঢোক পানি ধীরে ধীরে খেতে পারেন। এতে আটকে থাকা হাড় নিচে নেমে যেতে পারে। তবে গিলতে খুব কষ্ট হলে জোর করে পানি খাবেন না।
নরম খাবার খেতে পারেন
অনেকে নরম ভাত, কলা বা পানিতে ভেজানো রুটি অল্প করে খান। এতে হাড়টি নিচে নেমে যেতে পারে। তবে এটি খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। ধারালো হাড় হলে উল্টো আরও গভীরে আটকে যেতে পারে।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন
অনেক সময় গলায় হাড়ের আঁচড় লাগলেও মনে হয় এখনো কিছু আটকে আছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অস্বস্তি কমে যেতে পারে।
যেসব ভুল বিপদ বাড়াতে পারে
গলায় হাড় আটকে গেলে সবচেয়ে বেশি যে ভুলটি মানুষ করেন, তা হলো আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা। এতে গলার ভেতরে ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং হাড় আরও গভীরে আটকে যেতে পারে। একইভাবে শুকনা ভাত বা বড় খাবারের দলা জোর করে গিলে ফেলার অভ্যাসও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঘরোয়া ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো।
কখন হাসপাতালে যাবেন?
কিছু লক্ষণ দেখলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
- কথা বলতে না পারা
- লালা গিলতে সমস্যা হওয়া
- বুকে ব্যথা
- অতিরিক্ত কাশি বা দম বন্ধ লাগা
- মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া
চিকিৎসকেরা প্রয়োজন হলে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে হাড় বের করেন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে খাদ্যনালিতে ক্ষত বা সংক্রমণও হতে পারে।
শ্বাস বন্ধ হয়ে এলে কী করবেন?
যদি কেউ শ্বাস নিতে না পারেন বা কথা বলতে না পারেন, তাহলে ধরে নিতে হবে হাড়টি শ্বাসনালিতে আটকে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রথমে তাকে কাশি দিতে উৎসাহ দিন। এরপর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পিঠে কয়েকবার চাপড় দিতে পারেন। প্রশিক্ষণ থাকলে হাইমলিখ ম্যানুভার (পেটের ওপর বিশেষভাবে চাপ প্রয়োগ করে আটকে থাকা বস্তুটি বের করার প্রাথমিক চিকিৎসাপদ্ধতি) প্রয়োগ করা যেতে পারে।
একটু সতর্কতাই বড় সুরক্ষা
ঈদের আনন্দ যেন এক মুহূর্তের অসাবধানতায় আতঙ্কে না বদলে যায়। তাই মাংস ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খান। শিশু ও বয়স্কদের খাওয়ার সময় বাড়তি খেয়াল রাখুন। ছোট হাড় আছে কি না, আগে দেখে নেওয়ার অভ্যাসও নিরাপদ রাখতে পারে পুরো পরিবারকে।



