স্বাস্থ্য ঠিক রেখে ওজন কমাতে ৩ পরামর্শ পুষ্টিবিদের
স্বাস্থ্য ঠিক রেখে ওজন কমাতে ৩ পরামর্শ পুষ্টিবিদের

অনেকেই কোনো অনুষ্ঠান, ভ্রমণ বা বিশেষ উপলক্ষ সামনে রেখে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অল্প সময়ে অতিরিক্ত ওজন কমানোর লক্ষ্য শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সুস্থ থাকা, শুধু রোগা দেখানো নয়। ভারতের পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকর, যিনি বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের পুষ্টি পরামর্শক হিসেবেও পরিচিত, স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

১. দ্রুত নয়, ধীরে ধীরে ওজন কমান

অনেকেই ২–৩ মাসে ১০–১৫ কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্য ঠিক করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব দ্রুত ওজন কমলে শুধু শরীরের চর্বিই নয়, পেশিও ক্ষয় হতে পারে। এতে দুর্বলতা, ক্লান্তি, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া এবং ত্বক ঝুলে পড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ঋজুতা দিবেকর বলেন, 'ওজন কমানোর একটি স্বাভাবিক গতি থাকা উচিত। সাধারণভাবে বছরে মোট শরীরের ওজনের ৫–১০ শতাংশ কমানো স্বাস্থ্যসম্মত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।' এতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা মিলতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২. পরিচিত ও সুষম খাবারই যথেষ্ট

ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই পরিচিত খাবার বাদ দিয়ে বিদেশি বা ব্যয়বহুল খাবারের ওপর নির্ভর করেন। তবে বিশেষজ্ঞের মতে, প্রয়োজন নেই এমন পরিবর্তনের। মাছ-ভাত, মাংস-ভাত, রুটি-তরকারি, ইডলি, দোসা বা স্থানীয় স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়েই ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাবারে যেন পর্যাপ্ত প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ থাকে এবং মোট ক্যালোরি গ্রহণ পরিমিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. কোনো একক খাবার ওজন কমানোর জাদু নয়

অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট কোনো 'সুপারফুড', ডিটক্স পানীয় বা বিশেষ একটি খাবার দ্রুত ওজন কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো খাবার নেই, যা একাই ওজন কমানোর নিশ্চয়তা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপনের পরিবর্তনই টেকসইভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

মনে রাখবেন, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় বিষয়। দ্রুত ফল পাওয়ার চেয়ে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনকে গুরুত্ব দিলে দীর্ঘমেয়াদে শরীর সুস্থ থাকবে এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।