নাক ডাকার কারণ ও ঘরোয়া সমাধান
ঘুমের সময় নাক ডাকা অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির চেয়ে আশপাশের মানুষের জন্য বেশি বিরক্তিকর, কারণ উচ্চ শব্দে অন্যদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। শ্বাসনালী আংশিক সংকুচিত বা বাধাগ্রস্ত হলে বাতাস চলাচলের সময় টিস্যু কেঁপে ওঠে এবং সেই কম্পন থেকে নাক ডাকার শব্দ তৈরি হয়। তবে প্রাকৃতিক কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি এই সমস্যা কমাতে পারে।
আরামদায়ক বিছানা-বালিশের গুরুত্ব
নাক ডাকা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের সরঞ্জাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিছানা-বালিশ পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক ও নিদ্রাসহায়ক হতে হবে। ময়লাযুক্ত পরিবেশ নাকের পেশিতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। যাদের নাক ডাকার সমস্যা আছে, তাদের কাত হয়ে শোয়া ভালো। বিছানা এমনভাবে সাজান যাতে ঘুমানোর সময় শরীর কাত থাকে এবং মাথা বিছানার সমতল থেকে অন্তত চার ইঞ্চি ওপরে থাকে। এ ক্ষেত্রে ওয়েজ পিলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
মাউথপিস ব্যবহার
বাধাহীন শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য শ্বাসনালি খোলা থাকা জরুরি। ঘুমের সময় মাউথপিস ব্যবহার করলে চোয়াল সামনের দিকে থাকে এবং শ্বাসনালি খোলা থাকে। এটি বাজার থেকে কেনা বা দন্তরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্যে তৈরি করানো সম্ভব।
ওজন নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে গলা ও ঘাড়ের আশপাশের চর্বি শ্বাসনালী সংকুচিত করতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে নাক ডাকার সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।
পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস
ঘুমানোর ভঙ্গি নাক ডাকায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। চিৎ হয়ে শোয়ার সময় জিহ্বা ও গলার নরম টিস্যু শ্বাসনালীর দিকে সরে গিয়ে বাতাসের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। পাশ ফিরে ঘুমালে শ্বাসনালী তুলনামূলক খোলা থাকে এবং নাক ডাকার প্রবণতা কমে। বালিশের সাহায্যে এই ভঙ্গি বজায় রাখা যেতে পারে।
ন্যাসাল স্ট্রিপের ব্যবহার
ন্যাসাল স্ট্রিপ নাকের বন্ধভাব শিথিল করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি নাক ডাকা দূর করতে কার্যকর।
হালকা সুরের প্রভাব
আমেরিকান স্লিপ অ্যান্ড ব্রেদিং একাডেমির প্রেসিডেন্ট কেন্ট স্মিথের মতে, ঘুমের সময় হালকা সংগীত সুনিদ্রা নিশ্চিত করে এবং নাক ডাকার সমস্যা দূর করতে পারে। তিনি বলেন, সাধারণত গলার পেছনের নরম মাংসপেশির কারণে নাক ডাকার সমস্যা হয়। শান্ত সংগীত বা যন্ত্রের সুর মনকে উদ্দীপ্ত করে এবং সেই উদ্দীপনা নরম মাংসপেশিকে শক্তিশালী করতে পারে।
রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা
ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত বা ভারী খাবার খাওয়া নাক ডাকার সমস্যা বাড়ায়। বিশেষ করে দুগ্ধজাত খাবার, সয়া দুধ বা মসলাযুক্ত খাবার পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। ভরা পেটে শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে এসে গলায় জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ায়।
ভেষজ উপাদানের ব্যবহার
পিপারমিন্ট, টি ট্রি এবং ইউক্যালিপটাস তেলের মতো প্রাকৃতিক উপাদান নাসারন্ধ্র পরিষ্কার রাখতে সহায়ক। এগুলোর সুবাস শ্বাসপ্রশ্বাসকে স্বস্তিদায়ক করে এবং নাক বন্ধের কারণে সৃষ্ট নাক ডাকার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে।
নাক পরিষ্কার রাখা
নাক বন্ধ থাকলে বা নাসারন্ধ্রে শ্লেষ্মা জমলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, যা নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ায়। লবণ মেশানো হালকা গরম পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা উপকারী। এছাড়া ঘুমানোর আগে গরম পানিতে গোসল করলে নাকের পথ স্বস্তি পায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হয়।



