নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে চারজনের মৃত্যু, পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়েছে
নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্যের জেরে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে নিহতদের মরদেহ সিঙ্গা এলাকায় দাফন করা হয়েছে। নিহতরা হলেন ফেরদৌস শেখ, খলিল শেখ, তাহাজ্জুদ শেখ এবং ওসিকুর ফকির। এই ঘটনায় পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে, কারণ নিহতরা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য।
পরিবারের সদস্যদের বেদনাদায়ক বর্ণনা
নিহত ফেরদৌস শেখের ছোট ভাই হাসান শেখ নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের পাঁচজন ছেলে-মেয়ে। চার ছেলের মধ্যে বড়টার বয়স সতেরো বছর। সেই ছেলেটাকে ওরা কুপিয়েছে। তার অবস্থা বেশি ভালো না। আর সবচেয়ে ছোট মেয়েটার বয়স মাত্র দেড় মাস। এই ছেলে-মেয়ের এখন কী হবে। ওদের বাবাই ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের লোক। তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলল। এখন ওদের কে দেখবে।’
নিহত তাহাজ্জুদ শেখের স্ত্রী সুমী বেগম ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা সাহরি খেয়ে শুয়ে পড়েছিলাম। এর মধ্যে ওরা এসে বলছে, “আমরা আইনের লোক, উঠে দরজা খোলো।” এরপর দরজা খুললে দেখি, আমাদের ঘিরে ফেলেছে। এরপর মারছে। ও (খায়রুজ্জামান) একজন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (সাবেক) হয়ে এসব করবে? আমরা ওর ফাঁসি চাই। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।’
নিহতদের পেশা ও পরিবারের অবস্থা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহত চারজনই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁরা ছিলেন পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য। খলিল ও তাঁর স্ত্রী একসঙ্গে থাকতেন, খলিলের আয়ে দুজনের সংসার চলত। তাহাজ্জুদের সংসারে রয়েছে স্ত্রী ও তিন সন্তান, ছোট সন্তানের বয়স মাত্র আট মাস। তাহাজ্জুদের আয়ের ওপর নির্ভর ছিল পাঁচ সদস্যের এই সংসার। ওসিকুর ফকিরের ছোট ছোট দুটি সন্তান রয়েছে, তিনিও কৃষিকাজ করতেন।
হাসান শেখ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মতো খলিল ও তাহাজ্জুদের পরিবারও নিঃস্ব হয়ে গেছে। পরিবারগুলোকে কাজ করে খাওয়ানোর মতো কেউ থাকল না।’
পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে নিহত চারজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা করেনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবার।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রকিবুল হাসান বলেন, ‘এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।’
এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলো এখন মানবিক সহায়তার মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
