সংসদ সদস্য পরিদর্শনে হাসপাতালে ২৩ জনের ভর্তি ও দ্রুত ছাড়ার ঘটনা
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের হাসপাতাল পরিদর্শনের আগে ২৩ জন ব্যক্তি ভর্তি হন এবং তার চলে যাওয়ার পরপরই হাসপাতাল ছেড়ে দেন। গতকাল সোমবার আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরিদর্শনের আগে ভর্তি ও পরে ছাড়ার ঘটনা
স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবেন, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকালে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হন ২৩ জন 'রোগী'। সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে যান এবং বেলা একটার দিকে পরিদর্শন শেষে চলে যান। তার চলে যাওয়ার পরপরই ওই ২৩ জন ব্যক্তি হাসপাতাল ত্যাগ করেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোগীদের বক্তব্য ও হাসপাতালের অবস্থা
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া ব্যক্তিরা দাবি করেছেন যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তাঁরা বিভিন্ন স্থানে মারামারি-সংঘর্ষে আহত হয়েছেন। এরপর নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর পুনরায় অসুস্থ বোধ করায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছেন। তাঁদের অনেকেরই হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ মোড়ানো ছিল।
আনোয়ারার মাজারগেট এলাকার মো. আলমগীর ও পীরখাইন এলাকার মোহাম্মদ হোসেন নামে দুজন আগে থেকে ভর্তি রোগী অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের নির্ধারিত শয্যা থেকে সরিয়ে সেখানে নতুন করে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের তোলা হয়। তবে সংসদ সদস্য চলে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তিরা চলে যাওয়ায় তাঁরা শয্যা ফিরে পেয়েছেন।
হাসপাতাল কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া
জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, কিছু রোগী ফলোআপের জন্য সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এসব রোগীকে দুটি পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি দাবি করেন যে নিয়মিত রোগীদের ওয়ার্ড থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।
সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া না দেওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সংসদ সদস্যের সঙ্গে হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম জাকারিয়া চৌধুরী। পরিদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এখন ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।'
এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তদন্তের দাবি উঠেছে, এবং স্বাস্থ্য সেবার মান ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
