চট্টগ্রামে রান্নাঘরের গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত ১, দগ্ধ ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ নয়জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতা রানী আক্তার (৪০) সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পথে কুমিল্লায় মারা যান। তার স্বজন মো. মকবুল হোসেন সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সোমবার ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার বাসায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিস্ফোরণের পর ওই ঘরে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দগ্ধদের তালিকা ও অবস্থা
দগ্ধরা হলেন—শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), মো. আইমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫) এবং রানী আক্তার (৪০)। চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, ‘দগ্ধ নয়জনেরই শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রানী, পাখি এবং শাখাওয়াতের শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া একজনের ৮০ শতাংশ, আরেকজনের ৪৫ শতাংশ এবং বাকিদের শরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।’
চিকিৎসা ও মৃত্যুর ঘটনা
চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দগ্ধদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত বলেন, ‘হালিশহরে বাসায় বিস্ফোরণে দগ্ধ নয়জনের অবস্থাই শঙ্কাজনক। তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে একজন মারা গেছেন বলে শুনেছি।’ রানী আক্তারের শরীর ১০০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছিল, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু ঘটে।
বিস্ফোরণের কারণ
বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন ব্যাখ্যা করেন, ‘ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় না; কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ আছে। সম্ভবত চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে, যা বিস্ফোরণে রূপ নেয়।’ এই ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত সাড়া দিলেও গ্যাস নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার অভাবই মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিবারের পটভূমি
রানী আক্তার হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী ছিলেন, যিনি নিজেও দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মূল বাড়ি কুমিল্লার বরুড়ায়। এই দুর্ঘটনা পরিবারটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এবং বাকি আটজন এখনও হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন।
