রাজবাড়ীতে জমি বিরোধের জেরে হামলা: বসত ঘরে আগুন, ২০ জন আহত
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বেথুলিয়া এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সোমবার সকালে হিংসাত্মক হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের ১৪ জনসহ মোট ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এবং একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিরোধপূর্ণ জমির পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বেথুলিয়া খোন্দকার পাড়ায় প্রায় ১৮ একর সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয় মিয়া পাড়ার সৈয়দ জাবেদ আলীর সঙ্গে খন্দকার পাড়ার জলিল শেখের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে। স্বাধীনতার পর সৈয়দ জাবেদ আলী ওই জমিতে বসতি গড়েন। অন্যদিকে, জলিল শেখের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা এই সম্পত্তিকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে আসছেন।
প্রায় দুই মাস আগে জলিল শেখের ছেলেরা বিরোধপূর্ণ জমিতে একটি টিনের ছাপরা ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান না হওয়ায় আদালত ও থানায় গড়ায়। পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয়ভাবে সমাধানের পরামর্শ দিলেও গত শনিবার সালিস বৈঠক বসেনি।
হামলার বর্ণনা
সোমবার ভোরে সাহরি খাওয়ার পর ঘুমন্ত অবস্থায় জলিল শেখের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। আহত ইদ্রিস শেখ জানান, সকাল সাতটার দিকে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শামসুল হক সূর্যের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন রড, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে নতুন বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ঘুমিয়ে থাকা আতর শেখসহ চার–পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
আহত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন আব্দুল বারেক শেখ, ইদ্রিস শেখ, কুদ্দুস শেখ, আতর আলী শেখ, শাহিন, দুলাল শেখ, নিঝুম, মোস্তফা শেখ, মুনিয়া, হাসি বেগম, মৌসুমী, মনোয়ারা বেগম, আবু বক্কার ও রাকিব মণ্ডল। এছাড়া আরও দুজন আহত হয়েছেন, যাদের নাম জানা যায়নি। অন্যদিকে সৈয়দ শামসুল হক সূর্যর পরিবারের সিদ্দিক শেখ ও আফাজ উদ্দিন শেখসহ তিন–চারজনও আহত হয়েছেন।
চিকিৎসা ও অবস্থা
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আহত রোগীরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। অধিকাংশ আহতের হাড় ভাঙা ও কেটে যাওয়ার ক্ষত রয়েছে। আতর শেখের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বেথুলিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জমিতে তৈরি নতুন বসত ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ভেতর থেকে এখনো আগুনের শিখা বের হচ্ছে। এছাড়া রজব শেখ ও বারেক শেখের বাড়ির বাইরের টিনের বেড়াও ভাঙচুর করা হয়েছে।
পক্ষগুলোর বক্তব্য
অভিযুক্ত সৈয়দ শামসুল হক সূর্যর বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের নারী সদস্যরা দাবি করেন, ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিতে স্বাধীনতার পর থেকেই তাঁরা বসবাস করছেন। অন্যায়ভাবে অপর পক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরেই এ মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুই পরিবারের মধ্যে একাধিক মামলা চলমান। মারামারির বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
