চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে ৯ জন দগ্ধ, ঢাকায় স্থানান্তর
হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে ৯ জন দগ্ধ, ঢাকায় স্থানান্তর

চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে ৯ জন দগ্ধ, ঢাকায় স্থানান্তর

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় এক ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দগ্ধ ব্যক্তিদের সবাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর ওই ঘরে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভবনের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘সাহরির জন্য উঠেছিলাম। পাশের ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিস্ফোরণ, বের হয়ে দেখি আগুনে দগ্ধ চার-পাঁচজন ছোটাছুটি করছেন। গায়ের কাপড়ও ঝলসে গেছে তাঁদের। একজনের পরনের কাপড়ে তখনো দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। আমি দৌড়ে ওই বাসায় গিয়ে একটা শিশুকে নিয়ে আসি। তাড়াতাড়ি তার গায়ে পানি ঢেলে দিই। এ ছাড়া দুজনকে হাসপাতালে দিয়ে এসেছি। ঘরের চারদিকে এখন ভাঙা জিনিসপত্র, ভয়াবহ অবস্থা।’

দগ্ধ ব্যক্তিদের তালিকা

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন:

  • সাখাওয়াত হোসেন (৪৬)
  • মো. শিপন (৩০)
  • মো. সুমন (৪০)
  • মো. শাওন (১৭)
  • মো. আনাস (৭)
  • উম্মে আইমন (৯)
  • আয়েশা আক্তার (৪)
  • পাখি আক্তার (৩৫)
  • রানী আক্তার (৪০)

তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে সবাইকে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের বক্তব্য

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত জানান, আহত ব্যক্তিদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ পুড়লে সেটিকে আশঙ্কাজনক ধরা হয়। এ হিসাবে দগ্ধ ৯ জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন, পাখি আক্তার ও রানী আক্তারের শ্বাসনালির শতভাগ পুড়ে গেছে। মো. শিপনের শ্বাসনালির ৮০ শতাংশ পুড়েছে। মো. সুমন ও মো. শাওনের পুড়েছে ৪৫ শতাংশ। তিন শিশু—মো. আনাস, উম্মে আইমন ও আয়েশা আক্তারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

বিস্ফোরণের কারণ

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কোনো কারণে চুলা থেকে হয়তো গ্যাস লিক হয়েছিল; যে কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হয়েছেন।’ তিনি জানান, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ রয়েছে।

তবে ভবনের সাবেক বাসিন্দা মনসুর আলী দাবি করেন, গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুতের ওভার ভোল্টেজও বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই ভবনে আগেও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু গ্যাস বিস্ফোরণের কথা বললে হবে না। এই ভবনে ওভার ভোল্টেজ আছে।’

ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

সরেজমিন হালিমা মঞ্জিলে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের তৃতীয় তলার চারটি ফ্ল্যাটের প্রতিটির দরজা ভাঙা। বিস্ফোরণ ঘটা ঘরটির ভেতরের আসবাব থেকে শুরু করে ঘরের দেয়াল—সবই পুড়েছে। রান্নাঘরে প্রবেশের পথেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে রান্নার সামগ্রী। সামনে কক্ষে একটি আইপিএসের ব্যাটারি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পাশের ফ্ল্যাটটির আসবাবও বিস্ফোরণে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে আমরাও শুনেছি। তবে সেখানে আইপিএসের একটি ব্যাটারি দেখা গেছে। বাকি বিষয় ফায়ার সার্ভিস তদন্ত করে বলতে পারবে।’

এ ঘটনায় ভবনের বাসিন্দারা এখন আতঙ্কে রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।