চট্টগ্রামের হালিশহরে বিস্ফোরণে ৯ জন গুরুতর দগ্ধ, ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ৯ জন ব্যক্তি গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। আজ সোমবার ভোরে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় আহতদের অবস্থা অত্যন্ত শঙ্কাজনক হওয়ায়, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণের ঘটনা ও উদ্ধার অভিযান
ঘটনাটি ঘটেছে আজ ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায়। হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় বিস্ফোরণ ঘটে, যা দ্রুত আগুনে রূপ নেয় এবং পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনকে ভোরে হাসপাতালে আনা হয় এবং তাদের অবস্থা খুবই গুরুতর। আহতদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), পাখি আক্তার (৩৫) ও রানী আক্তার (৪০) এর শ্বাসনালির শতভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া মো. শিপন (৩০) এর শ্বাসনালির ৮০ শতাংশ, মো. সুমন (৪০) ও মো. শাওন (১৭) এর ৪৫ শতাংশ, এবং তিন শিশু মো. আনাস (৭), উম্মে আইমন (৯) ও আয়েশা আক্তার (৪) এর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুড়েছে।
বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেনের মতে, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় না, বরং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তিনি ধারণা প্রকাশ করেন যে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমা হওয়ার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে, যা আহতদের দগ্ধ হওয়ার কারণ।
এই ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
