রূপগঞ্জে প্রসূতির মৃত্যু: ভুল চিকিৎসা ও ২০ লাখ টাকার সমঝোতার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপিটালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভুলতা এলাকার ডিকেএমসি হাসপিটালে ঘটে। নিহত সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু (২০) ভুলতা ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকার কাউছার আহমেদ জুয়েলের মেয়ে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্বজনরা জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রসবজনিত কারণে সুমাইয়াকে হাসপিটালে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বিক্ষোভ ও সমঝোতার অভিযোগ
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপিটাল চত্বরে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানাতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ও মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে হাসপিটাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিহতের পরিবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে আপস-মীমাংসা করা হয়েছে।
পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সকালে নিহতের স্বজনরা ফাঁড়িতে এসে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছিলেন। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পাই এবং পরিস্থিতি শান্ত করি। পরে লোকমুখে শুনেছি উভয় পক্ষ সমঝোতা করেছে, তবে টাকার বিনিময়ের বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।”
এ বিষয়ে ডিকেএমসি হাসপিটালের পরিচালক নজরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। এখন পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিহতের পরিবারের প্রতিক্রিয়া
নিহতের পরিবার থেকেও বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিহত সুমাইয়া আহমেদ বিন্দুর ভাই সোহেল সিকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নেহা নামের এক নারী ফোন রিসিভ করে জানান, “ভাইয়া এখন ব্যস্ত আছেন, পরে যোগাযোগ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অর্থের বিনিময়ে এমন গুরুতর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হলে ভুল চিকিৎসার প্রবণতা আরও বাড়বে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। এই ঘটনা স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
