বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রবাসী আলমগীর হোসেনের মৃত্যু, লক্ষ্মীপুরে শোকের ছায়া
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর প্রবাসী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের উত্তর বদরপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম আলমগীর হোসেন, যিনি ৩৫ বছর বয়সী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ছুটিতে দেশে আসা আলমগীরের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত
আলমগীর হোসেনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তাঁর শ্বশুরবাড়ির একটি বৈদ্যুতিক মিটার যৌথভাবে ব্যবহার করে আসছিলেন আলমগীর ও তাঁর বড় ভাই খোরশেদ আলম। বিদ্যুৎ বিলের টাকা দুজন ভাগাভাগি করে পরিশোধ করতেন। চলতি মাসের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সময় আলমগীর ৫ টাকা কম দিয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল তাঁর বড় ভাই খোরশেদের। গতকাল সন্ধ্যায় এলাকার একটি চায়ের দোকানে বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়।
একপর্যায়ে আলমগীরকে মারধর করেন খোরশেদ ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গী। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আলমগীরকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, আলমগীরের মৃত্যুতে স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে তীব্র আহাজারি চলছে।
পুলিশের তদন্ত ও বিবৃতি
জানতে চাইলে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে খোরশেদ ও আলমগীরের মধ্যে প্রথমে বাড়িতে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে দুই ভাই দোকানে গেলে সেখানে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারির ঘটনা ঘটে। সেখানে প্রত্যক্ষদর্শীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর খোরশেদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও আলমগীর দোকানে বসা ছিলেন। পাঁচ মিনিট পর তিনি বসা অবস্থা থেকে ঢলে নিচে পড়ে যান। এ সময় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও বলেন, ‘পরিবার থেকে এখনো ঘটনাটি নিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে ঘটনাটির তদন্ত চলছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং খোরশেদ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজা হচ্ছে।
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও শোক
এলাকাবাসী জানান, আলমগীর হোসেন ছিলেন একজন শান্তিপ্রিয় ও পরিশ্রমী ব্যক্তি, যিনি বিদেশে কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সম্প্রদায়ে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে, আলমগীরের মৃত্যু প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যারা দেশে ফিরে পারিবারিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সামান্য বিষয় নিয়ে পারিবারিক সহিংসতা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছেন।
