নরসিংদীতে জমি বিরোধের জেরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের পায়ের রগ কাটার মর্মান্তিক ঘটনা
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের তীব্রতা চরম রূপ নিয়েছে, যেখানে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে কুপিয়ে তার দুই পায়ের রগ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে, যা এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের মোলাকান্দা মোগলবাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি আবু ছাঈদ মোগল, যিনি মোলাকান্দা গ্রামের জামাল উদ্দিন মোগলের ছেলে এবং শিবপুরের শ্বাষপুর কাজী মফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন, যেখানে তার জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণ চলছে।
বিরোধের পটভূমি ও হামলার পরিস্থিতি
আবু ছাঈদের মেয়ে রোকেয়া লিপির বর্ণনা অনুযায়ী, তাদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী স্বপন মোগলের দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকালে লিপি ওই জমিতে গেলে স্বপন মোগল তাকে বাধা দেন এবং মারধর শুরু করেন। লিপির চিৎকার শুনে তার বাবা আবু ছাঈদ ঘটনাস্থলে ছুটে এলে, স্বপন মোগল ও তার ভাই কিরণ মোগল দা নিয়ে হামলা চালিয়ে আবু ছাঈদের দুই পায়ের রগ কেটে ফেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহত শিক্ষককে প্রথমে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, কিন্তু গুরুতর অবস্থার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই সময়ে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
গুজবের প্রভাবে উত্তেজনা ও অগ্নিসংযোগ
এদিকে, শুক্রবার রাতে আবু ছাঈদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। উত্তেজিত জনতা স্বপন মোগল ও কিরণ মোগলের বাড়িঘর ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করে, যা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু এই ঘটনায় পুরো এলাকায় একটি থমথমে ও ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
শিবপুর মডেল থানার ওসি কোহিনূর মিয়া জানিয়েছেন, আহত শিক্ষকের স্বজনরা ইতিমধ্যে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে, তবে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ করতে। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা নরসিংদী জেলায় সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুতর সহিংসতার উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা জমি বিরোধ কীভাবে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে।
