রমজানে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা
রমজানে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

রমজানে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার সময় অনেকেই খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম করে ফেলেন, যা স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ইফতার ও সেহরিতে সঠিক খাবার নির্বাচন না করায় গ্যাস্ট্রিক, আলসার এবং হজমের নানা সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং বিজ্ঞানসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটি একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা সভার আয়োজন

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পবিত্র রমজানে বিজ্ঞানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একটি দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ. কিউ. এম. মোহসেন এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদ।

বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শসমূহ

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, রমজান মাসে ইফতারে অস্বাস্থ্যকর ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাই গ্যাস্ট্রিক আলসার ও হজমের জটিলতার প্রধান কারণ। তারা এই অভ্যাস পরিবর্তন করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করেন:

  • আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা
  • সেদ্ধ সবজি যুক্ত ছোলা খাওয়া
  • পরিমিত ক্যালরি গ্রহণ নিশ্চিত করা

তারা জানান, অতিরিক্ত তৈলাক্ত ছোলার পরিবর্তে সেদ্ধ সবজি যুক্ত ছোলা বেশি উপকারী। প্রতিদিন কমপক্ষে আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শও দেন তারা। ইফতারের সময় খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করে সুপ গ্রহণ এবং অন্তত আধ ঘণ্টা পর রাতের খাবার খাওয়া অধিক স্বাস্থ্যসম্মত বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের চাপ কমে এবং পরিপাকতন্ত্র স্বস্তিতে থাকে।

সেহরির জন্য বিশেষ নির্দেশনা

সেহরির সময় কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, চর্বিবিহীন আমিষ এবং সবজি গ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়। পানি শূন্যতা এড়াতে মূত্রবর্ধক চা ও কফি কম খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। সভায় অধ্যাপক ডা. এ. কিউ. এম. মোহসেন এবং অধ্যাপক ডা. দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদ সেহরি ও ইফতারে সুষম খাবারের সুফল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে রমজান মাসে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।