স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করা
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অগ্রাধিকার: মন্ত্রণালয় দুর্নীতিমুক্তকরণ

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করাই নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভালো কাজ অব্যাহত থাকবে এবং সিন্ডিকেটের কারণে তা নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।

মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপ

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও স্বার্থ দেখাই আমার কাজ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করার মতো প্রতিশ্রুতিও নতুন সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। নতুন সরকার ১৮০ দিনের কিছু অগ্রাধিকারও ঠিক করছে বলে জানা গেছে।

দুর্নীতিমুক্তকরণের অঙ্গীকার

‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনেক বড় এবং এর কাজও অনেক জটিল। শুরুর ক্ষেত্রে আপনার অগ্রাধিকার কী হবে?’—প্রথম আলোর এই প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করাই হবে আমার এক নম্বর অগ্রাধিকার।’

সদ্যবিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল এবং পরিবর্তনে হাত দিয়েছিল। বিগত সরকারের সময় হাতে নেওয়া ভালো কাজ বিএনপি সরকার অব্যাহত রাখবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ভালো কাজের উদাহরণের কথা জানতে চান।

অটোমেশন পদ্ধতি ও সিন্ডিকেট বিরোধী অবস্থান

উদাহরণ তুলে ধরার সময় এই প্রতিবেদক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরিরত চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বয়ক্রিয় বা অটোমেশন পদ্ধতি চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় ব্যক্তির ইচ্ছায় বদলি ও পদায়ন করা কঠিন।

এ ব্যাপারে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসকদের বদলি, পদায়নের এই পদ্ধতি যদি ভালো হয় তবে কোনো সিন্ডিকেট বা কোনো ধরনের দুর্নীতির কারণে তা নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।’

হাসপাতাল সেবা ও শূন্য পদ পূরণ

এর আগে সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চাই। চিকিৎসকেরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কি না তা দেখার জন্য আমরা হাসপাতালে যাব। হাসপাতালে কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না।’

সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, বিভিন্ন বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে প্রচুর শূন্য পদ আছে। শূন্য পদের কারণে মানুষ সেবা পাচ্ছে না। শূন্য পদ পূরণ করা হবে।

এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি দুর্নীতিমুক্ত ও কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন, যা দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।