ভোলায় ১২ বছরের কিশোরের আত্মহত্যা: মায়ের বকা খেয়ে ঝুলে মৃত্যু
ভোলা জেলার সদর উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত কিশোর মো. ফাহিমের আত্মহত্যার পেছনে মায়ের বকা খাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরছিফলী গ্রামে আনসার আলী মৌলভীর বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফাহিম স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম ও ফাহিমা বেগম দম্পতির বড় ছেলে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি বদমেজাজী স্বভাবের ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাহিমের মামা মো. রাকিব ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, "গতকাল সন্ধ্যায় একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমার বোন ফাহিমকে বকাঝকা করেন। মায়ের বকা শুনে রাগান্বিত হয়ে ফাহিম ঘর থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তার মা ও অন্যান্য আত্মীয়রা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে তারা বসতঘরের পাশে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকা ফাহিমকে দেখতে পান।"
উদ্ধার ও চিকিৎসা প্রচেষ্টা
মামা রাকিব আরও জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাহিমকে উদ্ধার করেন এবং তাকে চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। রাকিব উল্লেখ করেন, "পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই, তবে এ ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।"
পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "নিহত কিশোরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় থানায় একটি অজ্ঞাতনামা (ইউডি) মামলা দায়ের করেছি এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলছে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ফাহিমের মৃত্যু গ্রামে শোকের ছায়া ফেলেছে। কিশোর আত্মহত্যার মতো ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
