গাজীপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্যের হাত-পা বিচ্ছিন্ন, হাসপাতালে ভর্তি
গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) হাত ও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জয়দেবপুর জংশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. হাবিব (৪০), যিনি গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, সকালে দাপ্তরিক কাজে গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন এসআই হাবিব। কাজ শেষে পুলিশ লাইনসে ফেরার পথে তিনি মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হচ্ছিলেন।
এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর ডান হাত ও ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে এবং রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর অবস্থা এখনও গুরুতর এবং চিকিৎসা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুর রহমানের মতে, ওই পুলিশ সদস্য মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। ট্রেন কাছাকাছি এলেও তিনি রেললাইন থেকে সরছিলেন না। আশপাশের লোকজন ডাকাডাকি করলেও তিনি শুনতে পাননি, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশের এসআই কাইয়ুম আলী বলেন, 'স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হওয়ার সময় তিনি ট্রেনে কাটা পড়েন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি।'
দুর্ঘটনার প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই ঘটনা গাজীপুর এলাকায় নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেললাইন পার হওয়ার সময় মুঠোফোন ব্যবহার বা অন্য কোনো কারণে মনোযোগ বিভ্রাট মারাত্মক দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে। পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।
এছাড়া, আহত পুলিশ সদস্যের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া এবং তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
