মানিকগঞ্জে মাদকাসক্ত তরুণের আত্মহত্যার চেষ্টা, বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ পরিবারের তিন সদস্য
মানিকগঞ্জে আত্মহত্যার চেষ্টা, দগ্ধ পরিবারের তিন সদস্য

মানিকগঞ্জে মাদকাসক্ত তরুণের আত্মহত্যার চেষ্টায় পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ

মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় মাদকাসক্ত এক তরুণের আত্মহত্যার চেষ্টার ফলে তার পরিবারের তিন সদস্য মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে স্তম্ভিত করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকাল ৪টার দিকে, যখন ২৫ বছর বয়সী জনি বিশ্বাস তার বাবার কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা চেয়ে ব্যর্থ হন। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত জনি হতাশায় পড়ে ঘরের ভেতর নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন, কিন্তু এর ফলে তারাও আগুনের শিকার হন।

দগ্ধ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জনির বাবা শামছুল বিশ্বাস (৬৫), মা মাফিয়ারা বেগম (৫৫) এবং বড় ভাই মাসুম বিশ্বাস (৩৫)। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর তাদের অবস্থা গুরুতর বিবেচনা করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য

বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইকবাল হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, 'জনি মাদকাসক্ত—এলাকায় অনেকে এই তথ্য জানেন। মা–বাবার কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা চেয়ে না পেয়ে তিনি শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা, মা ও ভাই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে জনির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।'

মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, তারা এই ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবারের সদস্যদের অবস্থা ও সামাজিক প্রভাব

এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। মাদকাসক্তির ভয়াবহ পরিণতি এবং পারিবারিক দ্বন্দ্ব কীভাবে চরম পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারিক সহায়তা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

দগ্ধ হওয়া পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে, এবং তাদের পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছে স্থানীয় সম্প্রদায়। এই ঘটনা মানিকগঞ্জে মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্বকে আরও বেশি করে তুলে ধরেছে।