মানিকগঞ্জে মাদকাসক্ত তরুণের আত্মহত্যার চেষ্টা, বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ পরিবারের তিন সদস্য
মানিকগঞ্জে আত্মহত্যার চেষ্টা, দগ্ধ পরিবারের তিন সদস্য

মানিকগঞ্জে মাদকাসক্ত তরুণের আত্মহত্যার চেষ্টা, পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ

মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেলে জনি বিশ্বাস (২৫) নামের এক তরুণ নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন তাঁর বাবা শামছুল বিশ্বাস (৬৫), মা মাফিয়ারা বেগম (৫৫) ও বড় ভাই মাসুম বিশ্বাস (৩৫)।

ঘটনার পটভূমি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি বাবার কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা চেয়েছিলেন, কিন্তু বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনার পর বুধবার বিকেল চারটার দিকে জনি ঘরের ভেতর নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা, যার ফলে তাঁরা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।

উদ্ধার ও চিকিৎসা

স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার পর অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাঁদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জনির শারীরিক অবস্থা বিশেষভাবে গুরুতর, এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনি মাদকাসক্ত—এলাকায় অনেকে এই তথ্য জানেন। মা–বাবার কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা চেয়ে না পেয়ে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা, মা ও ভাই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন, যা সম্পূর্ণভাবে দুঃখজনক।’

মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার বিষয়ে জেনেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। আমরা প্রয়োজনীয় তদন্ত চালাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’

সামাজিক প্রভাব

এই ঘটনা মানিকগঞ্জে মাদকাসক্তির ভয়াবহতা এবং পারিবারিক সংকটের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাদকাসক্তি ও আর্থিক চাপের সমন্বয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, যা সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা পরিবারটির জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।

এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।