শরীয়তপুরে মাছ চুরির অপবাদে যুবকের পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনা
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আহত যুবক সেলিম পাইক (৩০) বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
ঘটনাটি ঘটেছে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকায়। স্থানীয় মৎস্যখামারি মালিক শাহীন মাদবর ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে এই মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রমতে, গত রোববার সকালে সেলিম পাইক শাহীন মাদবরের একটি মাছের খামারে প্রবেশ করলে খামারের শ্রমিকেরা তাঁকে ধরে ফেলে এবং পিটানো শুরু করে। পরে শাহীন মাদবর নিজে এসে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সেলিমকে আবারও পিটান।
শাহীন মাদবর দাবি করেন, সেলিম ও তাঁর সহযোগীরা চার মাস আগে তাঁর খামার থেকে ৬০ লাখ টাকার মাছ চুরি করেছে এবং রোববার ভোরে আবার জাল ফেলতে এসেছিল। তিনি বলেন, ‘আমার লোকজনকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে সেলিম ও তার লোকজন। তারা আমার এক পাহারাদারকে মেরে আহত করেছে। পরে আমার লোকজন ওদেরকে ধাওয়া দিলে ছয়জন পালিয়ে যায়, সেলিমকে ধরে ফেলে। তখন তাকে পেটানো হয়েছে।’
চিকিৎসা ও ভিডিও প্রমাণ
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন মফিজুর রহমান জানান, সেলিম পাইকের ডান পায়ের রানের হাড় ভেঙে দুই টুকরা হয়ে গেছে এবং হাড় জোড়া লাগানোর জন্য সার্জারি প্রয়োজন। ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে:
- একটি ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেলিমকে মাছের খামার থেকে তীরে নিয়ে এসে গাছের ডাল দিয়ে পিটাচ্ছেন, সেলিম জোরে চিৎকার করছিলেন।
- অন্য একটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে শাহীন মাদবরকে সেলিমের বাঁধা পায়ে গাছের ডাল দিয়ে জোরে পেটাতে দেখা যায়, তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তা দেখছেন।
পুলিশের তদন্ত ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল হক বলেন, ‘মাছচোর সন্দেহে ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী আইনগত পদক্ষেপ নিলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’ আহত সেলিম পাইক হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থায় বলেন, ‘আমি মাছ চুরি করিনি। আমাকে মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়েছে। আমার পা ভেঙে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেলিমকে পিটিয়ে পা ভেঙে ইকুরি এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছিল, পরে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে শাহীন মাদবর ও তাঁর লোকজনই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শাহীন মাদবর শরীয়তপুর পৌরসভার পালং এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
