জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমরান নাবিলের আত্মহত্যা, গেন্ডারিয়ার মেসে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, গেন্ডারিয়ায় দেহ উদ্ধার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যায় শোক

রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকার একটি মেস থেকে ইমরান নাবিল প্রামানিক নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেয়ে গেছে শোকের ছায়া।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে গেন্ডারিয়ার রজনী চৌধুরী রোডের একটি ভবনের ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত ইমরান নাবিল প্রামানিকের বয়স ছিল ২৬ বছর। তিনি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধুমাইটারি গ্রামের মো. শফিকুল ইসলাম প্রামানিক ও মোসা. শিরিন বেগমের সন্তান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী সম্প্রতি মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করে চাকরির সন্ধানে ছিলেন।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য

গেন্ডারিয়া থানার পরিদর্শক নাজমুল হাসান জানান, ধুপখোলা এলাকার মনিজা রহমান স্কুলের পাশের রজনী চৌধুরী রোডের বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায় এবং উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, "মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা অবিলম্বে থানায় যাই। ইমরান আরও দু’জনের সঙ্গে ওই মেসে থাকতেন। অন্য দু’জন নির্বাচনের কারণে বাড়িতে যাওয়ায় তিনি একাই কক্ষে ছিলেন।"

আত্মহত্যার প্রাথমিক ধারণা

গেন্ডারিয়া থানার এসআই মাসুম বিল্লাহ প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানান, "হতাশাগ্রস্ত হয়ে ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।" এই ঘটনা তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের আরও একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিক্ষার্থী পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পুলিশ আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে।